আজ  শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সেনাবাহিনীকে সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে: রাষ্ট্রপতি

1509626980
অনলাইন ডেস্ক : রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে যোগ্যতায় এবং অভিজ্ঞতায় আন্তর্জাতিক মানের হতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতে হবে। মেধা ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে সেনাবাহিনীকে দেশ এবং জাতির জন্য কাজ করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহী সেনানিবাসের শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স ‘১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন’কে জাতীয় পতাকা (ন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড) প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের আস্থা ও গর্বের প্রতীক। আর সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্সের সদস্যরা দেশের চৌকস, সুশৃঙ্খল ও দুঃসাহসী সেনানী। মাতৃভূমির সার্বভৌমত্বকে সমুন্নত রাখতে তারা জীবন বাজি রেখে কাজ করে যাচ্ছেন। দেশের সেবায় আত্মনিয়োগ ও আত্মোৎসর্গ করার সংকল্পে তারা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
সেনাবাহিনীকে একটি প্রশিক্ষিত, সুশৃঙ্খল এবং আধুনিক সাজসজ্জায় সজ্জিত বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলায় সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি আধুনিক,  যুগোপযোগী ও শক্তিশালী সেনাবাহিনী গঠন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার। বর্তমান সরকারের রূপকল্প-২০২১ বাস্তবায়নের আলোকে সেনাবাহিনীর আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি প্রতিষ্ঠিত ও গ্রহণযোগ্য বাহিনী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছে। সেবা ও কর্তব্য পরায়ণের মাধ্যমে এই বাহিনী জনগণের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং সমগ্র জাতির আস্থা অর্জন করেছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে ‘অপারেশন থান্ডারবোল্ট’ পরিচালনা করে নিজেদের কোনো ক্ষতি ছাড়াই সেনাবাহিনীর ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ১৩জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার-দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেছে। সিলেটের আতিয়া মহলেও সাহসিকতার সাথে ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ পরিচালনা করেছে। জঙ্গিবাদ এখন বিশ্বশান্তির জন্য হুমকি। এ অবস্থায় প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নের গুরুত্ব অপরিসীম।
তিনি বলেন, দেশের প্রাকৃতি দুর্যোগ ও দুর্ঘটনায় সেনাবাহিনীর সদস্যরা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বব্যাপি সুনাম অর্জন করেছে। এ বছর চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে অমূল্য প্রাণের বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাবার, পানি ও চিকিৎসা পৌঁছে দিয়ে সেনাবাহিনী আর্তমানবতার সেবায় অনন্য নজির স্থাপন করেছে। উত্তরাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দুর্গত এলাকায় এই বাহিনী কার্যকরী ভূমিকা রেখেছে। সেনাবাহিনীকে দেশের যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় এভাবেই প্রস্তুত থাকতে হবে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সামরিক জীবনে প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জিত হয় এবং নৈপুণ্য নিশ্চিত করা যায়। সর্বোত্তম প্রশিক্ষণ ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়ন বাঙালি জাতির সুনাম সারা বিশ্বে ছড়িয়ে দিয়েছে। প্রশিক্ষণ ও উন্নয়নের এই ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।
এরআগে রাষ্ট্রপতি রাজশাহী সেনানিবাসের শহীদ কর্নেল আনিস প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং ১ প্যারা কমান্ডো ব্যাটালিয়নকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূঁইয়া, সংসদ সদস্য মাহমুদুস সামাদ চৌধুরী কয়েস, রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী, সংসদ সদস্য কাজী আব্দুল ওয়াদুদ দারা, সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, সংসদ সদস্য বেগম আকতার জাহান, নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল নিজামউদ্দিন আহমেদ, বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল আবু এসরারসহ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এরআগে সকাল ১১টায় রাষ্ট্রপতি প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক, বগুড়া এরিয়ার কমান্ডার মেজর জেনারেল মো. মোশফেকুর রহমান, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ আশরাফউল কাদের, এডহক প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মঈন উদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী তাকে অভ্যর্থনা জানান।
মনোজ্ঞ ও আড়ম্বরপূর্ণ জাতীয় পতাকা প্রদান ও প্যারেডের পর আমন্ত্রিত অতিথি, বাংলাদেশ ইনফ্যান্ট্রি রেজিমেন্টাল সেন্টারের (বিআইআরসি) সকল সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ফোর্স এডহক প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডের সকল সদস্যদের সাথে রাষ্ট্রপতি এক প্রীতিভোজে অংশগ্রহণ করেন।