আজ  শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭

রাণীনগরের কাশিমপুর রাজবাড়ির শেষ অংশটুকু ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে

Raninagar kasimpor Rajbari Pic

মো. মমিন খান, রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি :

উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পশ্চিমে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীর পাশে কাশিমপুর মৌজায় এক একর ৯১শতক জমির উপর কাশিমপুর রাজবাড়ির অবস্থান। রাণীনগর উপজেলার একমাত্র ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে পরিচিত কাশিমপুর রাজবাড়ি এখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দ্বায়িত্বশীল মহল নজরে না নেওয়ায় কাশিমপুর রাজবাড়িটি দিনদিন স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে চাতাল, মিল-কলকারখানা, বসতবাড়ি সহ উঁচু জমি কেটে সমতল করে ধান চাষ করছে। রাজবাড়িটি প্রাচীন ঐতিহ্য নিদর্শন সমূহ দীর্ঘদিন যাবত রক্ষনা-বেক্ষন ও সংস্কারের অভাবে সকল কারুকার্য ধ্বংস প্রায়। কথিত আছে, পাগলা রাজার বাড়ি বলে এটি বেশি পরিচিত লাভ করেছে। রাজবাড়ির মূল ভবনের সামনের চারটি গম্বুজ, উত্তর পাশে মন্দিরের কিছু অংশ এখনও কালের সাক্ষী হিসেবে স্মৃতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
জানা গেছে, কাশিমপুর পাগলা রাজা নাটোরের রাজার বংশধর। শ্রী অন্নদা প্রসন্ন লাহেড়ী বাহাদুর ছিলেন এই রাজত্বের শেষ রাজা। তার চার ছেলে ও এক মেয়ে ছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর রাজবংশের সবাই এই রাজত্ব ছেড়ে পাশ্ববর্তী দেশ ভারতে চলে যায়। শুধু ছোট রাজা শ্রী শক্তি প্রসন্ন লাহেড়ী বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই কাশিমপুর রাজবাড়িতে তিনি বসবাস করতেন। সময়ের বিবর্তনে সেইও এক সময় কিছুটা চুপিসারে রাজবাড়ির স্টেটের অঢেল সম্পদ রেখে চলে যান ভারতে।
কশিমপুর রাজার শত শত বিঘা জমি ও পুকুর স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন সময় ক্ষমতায় আসা রাজনীতির ছত্র-ছাঁয়ায় দখলে রেখেছে এই সম্পদগুলো। রাজার সম্পত্তিগুলো স্থানীয় মানুষদের অত্যাচারে সবই প্রায় বেদখল। রাজবাড়ির বৈঠকখানার কিছু অংশ এখন কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বেশির ভাগ জায়গা স্থানীয়রা অবৈধ ভাবে দখলে নিয়ে বিভিন্ন পন্থায় উপজেলা ভূমি অফিস ও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে লীজ নিয়ে চাতাল তৈরী করে ব্যবসা করছে। দ্বায়িত্বশীল মহল রাজবাড়ি ও রাজার সম্পদগুলোর উপর নজর না দেওয়ায় সরকার কোটি কোটি টাকার সম্পদ ও রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সরকার যদি উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে এই সব অবৈধ স্থাপনা, জমি ও পুকুর গুলো উদ্ধার করে সংস্কারের যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করলে প্রতি বছর রাজবাড়ির বিশাল সমাজ্র থেকে অনেক টাকার রাজস্ব আয় করতে পারবে রাস্ট্র। এছাড়াও এই প্রাচীন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংস্কার করা হয় তাহলে এটি পর্যটকদের জন্য একটি দর্শনীয় স্থান হিসাবে গড়ে উঠতে পারে। সরকার যেন অতি শীঘ্রই রাজবাড়ির অবশিষ্ট অংশগুলো সংরক্ষণ ও সংস্কার করে তা পর্যটকদের জন্য এবং স্থানীয়দের জন্য একটি আকর্ষনীয় স্থান হিসাবে গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান এলাকাবাসির।
উপজেলার ২নং কাশিমপুর ইউপি চেয়ারম্যান মকলেছুর রহমান বাবু জানান, স্বাধীনতার পর কাশিমপুর রাজার বংশধররা কয়েক দফায় ভারতে চলে যাওয়ার পর থেকেই স্থানীয় কিছু ভূমি খেকো ব্যক্তিরা ইচ্ছে মত রাজার এই বিশাল সম্পত্তি জবরদখলে নেয়। এক সময় বিভিন্ন কায়দায় উপজেলা ভূমি অফিস থেকে লীজ নেওয়ার কথা আমি শুনেছি। এমনকি বড় বড় দালানকোটা ঘেড়া প্রাচীর ও রাজার প্রসাদের ইট খুলে প্রকাশ্যে দিবালোকে রাতে আধারে স্থানীয়রা লুটপাট করে বিক্রয় করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। রাজার বাড়ি বর্তমানে মৃত প্রায়। যতটুকু নির্মাণ শেলি কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে তা যদি রাষ্টের পক্ষ থেকে রক্ষনা-বেক্ষন ও সংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টি নন্দন করলে এখানেও গড়ে উঠতে পারে ভ্রমন পিপাসুদের জন্য দর্শনীয় স্থান।