আজ  বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২০

লঞ্চে দুই বোনকে ধর্ষণ চেষ্টার আসামি গ্রেপ্তার

 

প্রতারণামূলক সম্পর্ক গড়ে তুলে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিল সেনা সদস্য পরিচয়দানকারী আলমগীর খাঁ (২৫)। ৩০ ডিসেম্বর দুই বোনকে কৌশলে বরিশালগামী কীর্তনখোলা লঞ্চে তুলে নেয়। এরপর কেবিনে উঠিয়ে রাতে ধর্ষণের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় পলাতক আলমগীরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকা থেকে। জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে তার প্রতারণামূলক নানা অপকর্মের কথা।
র‌্যাব সূত্র জানায়,গ্রেপ্তার আলমগীর খাঁ নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া থানার কাটাকুশিয়া গ্রামের এলাহি নেওয়াজ খাঁর ছেলে। সে নিজেকে সেনা সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে বেশ কিছু অপরাধ করেছে। ২০১২ সালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ কচুক্ষেত আর্মি স্টোরে চাকুরি নিয়েছিল আলমগীর। সেখান থেকে কৌশলে সেনাবাহিনীর ভূয়া আইডি কার্ড ও ট্রাউজার সংগ্রহ করে। পরে সেগুলো দেখিয়ে মানুষের সাথে প্রতারণা করত। সে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে মিথ্যা পরিচয়ে ফেসবুক আইডি খুলেছিল।
ফেসবুকে মিথ্যা পরিচয়ে এক তরুণীর সাথে আলমগীর ভাই-বোনের সম্পর্ক গড়ে তুলে। গত ২৫ ডিসেম্বর আলমগীর তাদের বাড়িতে যায় এবং কৌশলে ঘনিষ্ঠ কিছু ছবি মোবাইলে ধারণ করে। সেখানে গভীর রাতে তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা হয়েছিল বলে জানা যায়। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনা কাউকে না জানাতে বাধ্য করে তরুণীকে। আলমগীর গত ৩০ ডিসেম্বর তরুণী ও তার বোনকে বরিশাল বেড়াতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। প্রস্তাবে সম্মত না হলে তাদের আপত্তিকর ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপর ঢাকা থেকে দুই বোনকে কৌশলে বরিশালগামী কীর্তনখোলা লঞ্চের কেবিনে তুলে নেওয়া হয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আলমগীর লঞ্চের কেবিনের ভিতর পর্যায়ক্রমে দুই বোনকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। তাদের আপত্তিকর ছবি তুলে রাখে। ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে আলমগীর দুই বোনের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশের সহযোগিতায় দুই বোন বাড়িতে ফেরেন।
এদিকে ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ পেয়ে র‌্যাব-১১ গোয়েন্দা নজরদারী ও তথ্য অনুসন্ধান করতে থাকে। মঙ্গলবার বিকালে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সাইনবোর্ড এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে র‌্যাব আলমগীরকে গ্রেপ্তারে সক্ষম হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আলমগীর তার অপকর্ম স্বীকার করে নেয়।