আজ  শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর, ২০১৮

শিউলীর দুই বছরের ভাঙা সংসার জোড়া লাগালেন ইন্সপেক্টর আলমগীর

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত

নিজ কার্যালয়ে ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন

নিজ কার্যালয়ে ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন

আরাফাত আল-আমিন ◊
এক সন্তানের জননী শিউলী। গত ২০০৮ সালের ২৫ জানুয়ারী পা রাখেন সংসার জীবনে। ইসলামী সরাশরীয়ত মোতাবেক ১ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করা হয় বিয়েতে। মাহি (৮) নামে এক পুত্র সন্তানের জননী শিউলী। বিয়ের পর থেকেই অশান্তিতে কাটছে তার বিবাহিত জীবন। বিগত ১০ বছর যাবৎ যৌতুক যন্ত্রণায়, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন পোহাতে হচ্ছে তাকে। গত ২ বছর আগে তার স্বামী জিয়াউর রহমান মারধর করে সন্তানসহ পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয় তাকে। এরপর থেকেই তার কোন খোঁজ-খবর নেন না, এমনি ভোরন-পোষনও দেন না স্বামী। এমতাবস্থায় শিউলীর সংসার ভাঙার পথে প্রায়। ঠিক এই সময় তাকে স্বামীর অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং তার ভাঙা সংসার জোড়া লাগিয়ে দিয়েছেন মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন।

শিউলী আক্তার চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রামদাসপুর গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের কন্যা। তার স্বামী জিয়াউর রহমান উপজেলার মাথাভাঙ্গা বালুচর গ্রামের মৃত করিম সরকারের ছেলে। সংসার ফিরে পেয়ে অনেক আনন্দিত শিউলী। সাংবাদিকদের সাথে এক সাক্ষাতে শিউলী জানান, বিয়ের পর থেকেই আমার স্বামী ও শ্বাশুড় বাড়ির লোকজন আমার উপর যৌতুক চেয়ে শারীরিক নির্যাতন করতো। বিয়ের কিছু পর বিদেশ যাওয়ার কথা বলে আমার পিতার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা আনে সে (স্বামী)। বিদেশ যায়নি টাকাও ফেরত দেয়নি। এরপর আবার টাকা চাইতো। দিতে অপারগতা প্রকাশ করলেই বেশি করে নির্যাতন চালাতো। গত দুই বছর আগে আমাকে বাড়ি থেকে সন্তানসহ তাড়িয়ে দেয়। কোন উপায়ন্তর না পেয়ে গত ১৩/০৩/১৮ ইং তারিখে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার এর কাছে অভিযোগ দাখিল করি। এ অভিযোগের পেক্ষিতে গত ৩০ এপ্রিল মতলব উত্তর থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন দুই পক্ষকে ডেকে সমাধান করে দেন। এখন আমার স্বামী আমাকে মেনে নিয়েছে। তার সব ভুল তিনি বুঝতে পেরেছেন। আমি খুব খুশি।

স্বামী ও সন্তানের সাথে হাস্যোজ্জল শিউলী আক্তার

স্বামী ও সন্তানের সাথে হাস্যোজ্জল শিউলী আক্তার

এ ব্যাপারে কথা হয় ইন্সপেক্টর (পুলিশ পরিদর্শক) মো. আলমগীর হোসেনের সাথে। তিনি বলেন, গত ১৩ মার্চ শিউলী এসপি অফিসে অভিযোগ করেছিলেন। এর প্রেক্ষিতে আমাকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। এরপর দুই পক্ষকে ডেকে বহু চেষ্টার পর একটি সমাধানের পর্যায়ে যেতে পেরেছি। শিউলী ও তার স্বামী দুজই এখন খুশি। আলমগীর হোসেন বলেন, মতলব উত্তর থানায় আমি ওসি (তদন্ত) হিসেবে কর্মরত আছি। এর পাশাপাশি এসপি মহোদয়ের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন সহায়তা ডেস্কের দায়িত্বও পালন করছি। এ দায়িত্ব পালন করতে এসে আমার এক নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ হয়েছে। অবহেলিত ও নির্যাতিত নারীরাই বেশি আইনগত সেবা নিতে আসেন। যখন তাদের সমস্যার সমাধান করতে পারি তখন তাদের মুখে হাঁসি দেখলে আমার খুব ভাল লাগে। মানুষের সেবা দিতে পারলে নিজে আনন্দ পাই। তিনি আরও বলেন, আমার এ সফলতার পিছনে চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার শামছুন্নাহার মহোদয়ের ব্যাপক অবদান আছে। তিনি বিভিন্ন সময় আমার কাজে অনুপ্রেরণা যোগিয়ে দেন, আশ্বাস দেন। এছাড়া মতলব উত্তর থানার ওসিও আমাকে অনেক সহযোগীতা করে থাকেন।

এছাড়াও গত দেড় বছরে প্রায় দেড় শতাধিক এমন অভিযোগ নিষ্পত্তি করেছেন ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেন। এমন অবহেলিত নারীর মুখে হাঁসি ফুটিয়েছেন তিনি। এমন নজির আগে কখনো চোখে পড়েনি। সত্যিই তিনি সর্বোচ্চ প্রশংসার দাবীদার। এর আগেও ইন্সপেক্টর আলমগীর হোসেনকে নিয়ে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। ওই সংবাদ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে অনেক প্রশংসা করেন তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করা কয়েজনের মন্তব্য তুলে ধরা হলো- রিংকু ইসলাম লিখেছেন, ‘আপনি পুলিশের একজন মডেল’। রেজাউল করিম লিখেছেন, ‘আমাদের গর্ব আপনি ভাই’। মোহাম্মদ বাবুল লিখেছেন, ‘ভাল কাজ করা ভাল’ সবাই তা পারে না, যে করে দুনিয়া ও আখিরাতে ভাল’। আরো কয়েকজন লিখেছেন, ‘অভিনন্দন’। আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর লিখেছেন, আল্লাহ তায়ালা তার উপর রহমত ও বরকত বর্ষিত করুন’। লুৎফুর রহমান লিখেছেন, ‘আপনার জন্য আমরা গর্বিত’। ইঞ্জি. ইমরান লিখেছেন, ‘ভাল কাজ, অভিনন্দন ভাল করার জন্য’। ফখরুল ইসলাম রনি লিখেছেন, ‘সৎ, পরিশ্রমী, মেধাবী এবং দায়িত্ববান পুলিশ অফিসার’। নোমান দেওয়ান লিখেছেন, ‘আপনার জন্য শুভ কামনা রইল’। রবিউল আউয়াল লিখেছেন, ‘মহৎ মানুষ, কাজও মহৎ’। বিল্লাল সরকার লিখেছেন, ‘আপনি আমাদের গৌরব’।

নিজ পরিবারের সাথে ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন

নিজ পরিবারের সাথে ইন্সপেক্টর মো. আলমগীর হোসেন