আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শিথিল হচ্ছে সড়ক পরিবহন আইন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

6বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) দুর্বলতার কারণে সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়ন কিছু কিছু ক্ষেত্রে শিথিল করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

তিনি বলেছেন, এ আইন বাস্তবায়ন করতে নতুন করে চার সচিবের নেতৃত্বে চারটি উপকমিটি করা হয়েছে। দুই মাসের মধ্যে তারা সুপারিশ ও অ্যাকশন প্ল্যানসহ প্রতিবেদন জমা দেবে।

সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন সেক্টরে শৃঙ্খলা জোরদার এবং দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের জন্য টাস্কফোর্সের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয় রবিবার। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। পরে তিনি সাংবাদিকদের এসব বলেন।

এ সময় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজহাজান খানসহ জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মোস্তফা কামাল উদ্দীন, পুলিশের মহাপরিদর্শক ড.মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারীসহ পরিবহন নেতা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের চার মন্ত্রণালয়ের চার সচিবের নেতৃত্বে গঠিত সাব-কমিটিগুলো সড়কে বিশৃঙ্খলার কারণ চিহ্নিত করবে, পাশাপাশি শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে। গত বছর সড়কে শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তৎকালীন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সে কমিটি ১১১ দফা সুপারিশ করে। সেগুলো বাস্তবায়নেও নতুন সাব-কমিটি কাজ করবে।

তিনি বলেন, সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব সড়কসংক্রান্ত বিষয়ে বেশি নজর দেবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষকে (বিআরটিএ) শক্তিশালী করতে এবং অসঙ্গতি দূর করতে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানকেও সঙ্গে নেয়া হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব সড়ক-মহাসড়কের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা দেখবেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবকে জেলা ও উপজেলায় সড়কের অসঙ্গতি দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর জনসচেতনা বাড়াতে কাজ করবেন তথ্য সচিব।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সড়ক আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান নেই। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত বছরের সাজা হবে এবং সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কত টাকা জরিমানা হবে, সেটি লেখা রয়েছে। অপপ্রচারে চালকদের মধ্যে ভীতির সৃষ্টি হয়েছিল। বিআরটিএ এখনো অনেক লাইসেন্স নবায়ন করতে পারেনি। আগামী বছরের ৩০ জুনের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের কাজ শেষ করতে বলা হয়েছে। যারা নির্ধারিত মেয়াদে গাড়ির ফিটনেস ট্যাক্স দেননি, তাদের জরিমানা মাফ করার আবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সুপারিশসহ আবেদন অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিলে ট্যাক্স মাফ করে দেওয়া হবে। তবে একবারই মাফ করা হবে, পরে আর সুযোগ দেওয়া হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শাহজাহান খান।