আজ  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০

শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে বিকল্প চ্যানেলে পরীক্ষামূলক ফেরি চলছে

 

নাব্যতা সংকটে টানা দুই দিন বন্ধ থাকার পর শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি নৌরুটে বিকল্প চ্যানেল ব্যবহার করে পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর শুধুমাত্র কিছু সংখ্যক পণ্যবাহী ট্রাক নিয়ে শিমুলিয়া ঘাট থেকে কাঠালবাড়ির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ফেরি ক্যামেলিয়া।

তবে বিকল্পপথ পালেরচর হয়ে ফেরি চলাচল করায় অতিরিক্ত ২৮ কিলোমিটার বেশি নৌপথ পাড়ি দিতে স্বাভাবিক সময় থেকে তিনগুণ বেশি সময় লাগবে।

 

বিষয়টি জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী। মঙ্গলবার দুপুর দুপুর সাড়ে ১২টায় শিমুলিয়া ঘাট ও পদ্মা সেতুর লৌহজং পয়েন্টে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের একথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘গত আটদিন একটানা এই নৌপথে ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। বিআইডব্লিউটিএ‘র কর্মীরা অক্লান্ত পরিশ্রম করে নৌরুটিকে চালু করে। কিন্তু দূর্ভাগ্য যে একরাতের মধ্যে চর ভেঙে এই চ্যানেল বন্ধ হয়ে গেছে। এখন এসে কয়েকটি বিকল্প চ্যানেল পরিদর্শন করেছি। লৌহজং চ্যানেলটিকে আগামীকালের মধ্যে খুলে দেওয়ার চেষ্টায় সেখানে ড্রেজার কাজ করছে। এছাড়া হাজরার চর, যা প্রায় এক কিলোমিটার, একটি বিকল্প চ্যানেল হিসেবে আছে। সেখানে আমাদের কিছু ড্রেজিং করার পরিকল্পনা আছে। যা ড্রেজিং করলে চালু করতে পারব। কিন্তু এগুলো করতে সময় লাগবে।’

সচিব আরও বলেন, ‘লৌহজং চ্যানেল কিন্তু অনিশ্চিত। কেননা পাশেই ভাঙন চলছে। যেকোন সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর জন্য বিকল্প নৌ-রুট পালের চর হয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ফেরি চালু করা হলো, যা স্বাভাবিক নৌপথের থেকে ২৮ কিলোমিটার বেশি। জনগণের জরুরি প্রয়োজনের জন্য পালের চর দিয়ে ফেরি চালুর এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স এর মতো স্পর্শকাতর বিষয়ের যানবাহনগুলো পারাপার করার পরিকল্পনা এখন নেই এই নৌ-রুট দিয়ে। তাই তাদের এই পথ ব্যবহার না করার জন্য নিরুৎসাহিত করব এবং পায়াটুরিয়া রুট ব্যবহার করার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি।’

এছাড়া, এই নৌ-রুটে পুরো সংকট কাটিয়ে উঠতে আরো ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

এদিকে বিআইডব্লিউটি’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক জানান, ফেরি ক্যামেলিয়া সফলভাবে পৌঁছাতে পারলে, সীমিত পরিসরে ফেরি চলাচল করবে। বর্তমানে শুধু জরুরি পণ্যবাহী যানবাহন ব্যতীত, যাত্রীবাহী সকল প্রকার যানবাহন পারাপার বন্ধ থাকবে।

পরিদর্শনকালে আরো উপস্থিত ছিলেন- নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অনল চন্দ্র দাস, বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান খাঁজা মিয়া, বিআইডব্লিউটিএ’র চিফ ইঞ্জিনিয়ার (ড্রেজিং) আব্দুল মতিন, পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আব্দুল কাদেরসহ অন্যান্যরা।’