আজ  মঙ্গলবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০১৮

সারাদেশে নতুন বই পেয়ে উল্লাসিত শিশুরা

book-bg20180101144048

ঢাকা: নতুন বছরের প্রথম সূর্যের আলোয় ঝলমলে সকাল। সবুজ ঘাসের ডগায় তখনও চিকচিক করছিলো শিশির। এমন ঝলমলে সকালে এসেছে হাজারো শিশু। রং-বেরংয়ের পোশাক পরিহিত শিশুদের হাতে রঙিন বেলুন-ফেস্টুন, বাহারি আয়োজনে সাজানো মাঠে বসেছিলো কচি-কাঁচাদের আসর। হাতে হাতে নতুন বই পেয়ে উদ্বেলিত শিশুরা। আনন্দে মাতোয়ারা ছিলো সারা সকাল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) খেলার মাঠে এমন সুন্দর সকাল এসেছিলো শিশুদের মধ্যে, ক্যাপ ও ব্যাচ পড়ে জড়ো হয়েছিলো প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিশুরা; ফিরেছেও হাসি মুখে।

বিনামূল্যে বই বিতরণ উৎসবে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ঢাকার বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এসেছিলো এ মাঠে। লালবাগ, কোতোয়ালী, ডেমরা, সূত্রাপুর, মতিঝিল থানার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এসেছিলেন শিক্ষক-অভিভাবকরাও। নানান রংয়ের কাপড়ে ঘেরা মাঠের মধ্যে ছিলো আয়োজন, আর খোলা আকাশে তখন উড়ছিলো রঙিন বেলুন। এর সামনেই ছিলো মঞ্চ।

মঞ্চে অতিথিদের সামনে সকাল ঠিক ১০টার পরপরই শুরু হয় আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ থেকে পাঠের পর একে একে শুরু হয় সংগীত পরিবেশন। ‘আজ বাংলাদেশের হৃদয় হতে’, ‘আমরা সবাই রাজা’- এমন সব গানে সুর মেলায় শিশু-শিক্ষার্থীরাও। হাত উঁচিয়ে, তালি দিয়ে কোলাহলপূর্ণ হয়ে ওঠে বিস্তীর্ণ মাঠ।

সুরের ঝংকারের পালা শেষ করে ঘোষণা আসে, এবার আসছেন হানিফ সংকেত, ইত্যাদির হানিফ সংকেত! সঙ্গে সঙ্গে চিৎকার দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শিশুরা।

“আজকে আমার মনে হচ্ছে আমি ফুলের সঙ্গে আছি”, সামনে হাজারো শিশু দেখে এমন কথা বলে বক্তব্য শুরু করেন হানিফ সংকেত। বলেন, আমাদের সময় কল্পনাও করতে পারিনি এমন উৎসবে বই পাবো, বড় ভাইদের বলে রাখতাম পুরনো বইয়ের জন্য।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “শুধু বই পেলেই হবে না, বই জ্ঞানের আলো ছড়ায়, তোমরা আলোকিত করে জ্ঞানের পরিধি বাড়াবে। স্কুলে যেতে হবে, গাইড বই, কোচিং বাদ দিতে হবে”।

প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান। বলেন, আজকের এ দিনটি গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবছর শিশুদের হাতে এদিনে নতুন বই তুলে দেই। প্রধানমন্ত্রী আগেই বই বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন।