আজ  শুক্রবার, ২০ অক্টোবর, ২০১৭

সারা দেশে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিক্ষোভ

1_162356

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির প্রতিবাদে রাজধানীসহ সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন। অনেক স্থানে এসব মিছিলে পুলিশ বাধা, লাঠিচার্জ ও নেতাকর্মীদের আটক করে। ঢাকার কেরানীগঞ্জে বিএনপির মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলায় ২০ জন আহত হয়েছে। বরিশালে যুবদল ও খুলনায় ছাত্রদলের মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। এতে আহত হয়েছে ১৮ নেতাকর্মী। আজ ঢাকা মহানগরসহ সারা দেশের জেলা ও মহানগরীতে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল করে স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদল। মঙ্গলবার সকালে দৈনিক বাংলা ও পল্টনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। মিছিল থেকে ছাত্রদলের ৮ নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। আটককৃতরা হল : কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, সহসাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফ ফারুকী হীরা, স্কুলবিষয়ক সম্পাদক আরাফাত বিল্লাহ খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সহসভাপতি সাজিদ হাসান বাবু, ফজলুল হক হলের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম, তিতুমীর কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক কাজী শহীদুল, ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক ইমরান ও পল্টন থানার ইয়াসিন ভূঁইয়া। ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসান জানান, পুলিশ বিনা উসকানিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে লাঠিপেটা করে তাদের ৮ নেতাকে গ্রেফতার করেছে। পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) সিদ্দিকুর রহমান আটকের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা কয়েকজনকে আটক করেছি। মতিঝিল থানায়ও দু’জনকে আটক করা হয়েছে।’ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকালে ফকিরেরপুল মোড় থেকে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের উদ্যোগে একটি মিছিল বের করা হয়। মিছিলে অংশ নেন, কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজীব আহসান, সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান, সহসভাপতি তারেক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিয়া মো. রাসেল, নুরুল হুদা বাবু, মুশফিকুর লেনিন, মুফিজুর রহমান আশিকসহ কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি দৈনিক বাংলা মোড় যাওয়ার পরই পুলিশ হামলা চালালে তা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ সময় সেখান থেকে পুলিশ আট নেতাকে আটক করে। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে স্বেচ্ছাসেবক দল আরেকটি বিক্ষোভ মিছিল করে। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু ও সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েলের নেতৃত্বে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে একটি বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাদরেজ জামান, মহানগর দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এসএম জিলানী, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহসভাপতি রফিক হাওলাদার, সাবেক সহসাংগঠনিক সম্পাদক একেএম আবুল কালাম আজাদ, সাবেক দফতর সম্পাদক আকতারুজ্জামান বাচ্চু, দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক সাদ মোর্শেদ পাপ্পা সিকদার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ঝিলন, কেন্দ্রীয় নেতা মহিউদ্দিন লোবান, আতিক, ডা. জাহিদুল কবির ও নুরুজ্জামান সরদার অংশ নেন।

বরিশাল ব্যুরো জানায়, বরিশাল নগরীতে লাঠিচার্জ করে যুবদলের বিক্ষোভ মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জেলা যুবদলের সভাপতিসহ ১০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে নগরীর বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর সড়কে (সদর রোড) এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রতিবাদে যুবদল বিক্ষোভ সমাবেশ করে। জেলা যুবদল সভাপতি অ্যাডভোকেট পারভেজ আকন বিপ্লবের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা বিএনপি কার্যালয়ের সম্মুখে বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে সদর রোডে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে নেতাকর্মীরা সদর রোডে বেরিয়ে পড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এতে মিছিলটি পণ্ড হয়ে যায়। পুলিশের লাঠিচার্জে বরিশাল জেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আকন বিপ্লব, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এইচএম তসলিম উদ্দিনসহ প্রায় ১০ নেতাকর্মী আহত হয়। কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি জানান, কেরানীগঞ্জে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের সহায়তায় ক্ষমতাসীন দলের লোকজন হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে বিএনপির অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে জিনজিরা বাসরোডে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশ দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সদস্য সিরাজুল ইসলামকে আটক করে। বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার যুগ্ম আহ্বায়ক নিপুণ রায় চৌধুরী অভিযোগ করেন, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে জিনজিরায় দলীয় কার্যালয়ে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিবাদ সভা শেষে দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হলে জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অর্ধশত নেতাকর্মী লাঠিসোটা নিয়ে পুলিশের সহায়তায় তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তাদের ২০ নেতাকর্মী আহত হয়। এ অবস্থায় হামলাকারীদের ধরার পরিবর্তে পুলিশ উল্টো সিরাজুল ইসলাম নামে তাদের এক নেতাকে আটক করেছে। জিনজিরা ইউপি চেয়ারম্যান সাকুর হোসেন সাকু বলেন, মিছিল মিটিংয়ের নামে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তা বন্ধ করে অরাজকতা করছিল। যানবাহন চলাচলে বাধা দিচ্ছিল। আমি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হিসেবে তাদের বারণ করলেও তারা শোনেনি। পরে তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগ সঠিক নয়।

খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনায় পুলিশের বাধার মুখে পড়ে ছাত্রদল। মঙ্গলবার বিকালে সদর থানা মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাসে ছাত্রদলের ৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছে। বিকাল ৪টার দিকে ছাত্রদল নেতারা মিছিল শুরু করে। মিছিলটি ডাকবাংলা মোড় থেকে ফেরিঘাট মোড় ঘুরে পিকচার প্যালেস দিয়ে পার্টি অফিসে যাওয়ার সময় পুলিশ মিছিলে লাঠিচার্জ করে এবং ২ রাউন্ড টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থলে ছাত্রদল নেতা শাহিন মোল্লা, সাজ্জাদ হোসেন জিতু, আজমল হোসেন রাসেল, রাসেল ফরাজী শুভ, বেল্লাল হোসেন, আসিফ, তানভির বারী হামিম লাঠিচার্জে আহত হয়। ছাত্রনেতারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।