আজ  শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮

স্থগিত তিন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন

অনলাইন সংস্করণ: নির্বাচন নিয়ে আইনি লড়াইয়ে টিকতে পারছে না নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে একের পর এক সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হয়ে যাচ্ছে। স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরও সিটিগুলোর সীমানা বা ভোটার তালিকা সংক্রান্ত সমস্যা সম্পর্কে নির্বাচন কমিশন বারবার পাশ কাটিয়ে গেছে। শেষ পর্যন্ত এসব ইস্যুতেই আটকে গেছে নির্বাচনগুলো।

নানা জটিলতায় ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে উপনির্বাচন স্থগিত হয়েছিল। এর পরই একই কারণে স্থগিত হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে যুক্ত হওয়া নতুন ১৮টি ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর নির্বাচন।

81

এবার সীমানা জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন স্থগিত হল। তফসিল ঘোষণার পর এভাবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ইসির ওপর মানুষের আস্থা কমছে বলে মনে করছেন নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা।

তাদের মতে, স্থানীয় সরকার ও ইসির আইনি লড়াইয়ের যোগ্যতার ঘাটতি ও লোকবলের অভাবে এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। কেউ কেউ নির্বাচন কমিশনের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। একই সঙ্গে আগামী সব সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন হবে কিনা- সেই শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

তারা মনে করেন, নির্বাচন কমিশনের যথাযথ উদ্যোগ ও দুর্বলতার কারণে নির্বাচন নিয়ে দায়ের হওয়া মামলা সঠিকভাবে পরিচালনা করতে পারছে না কমিশন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাদের কার্যক্রমে শ্লথগতি দেখা গেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন স্থগিতের কারণে ভালো প্রার্থীরা ভোটে আসতে আগ্রহী হবেন না।

ছয়টি মৌজার সীমানা নিয়ে এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার গাজীপুর সিটি নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেন হাইকোর্ট। ভোটের মাত্র ৯ দিন আগে এ নির্বাচন স্থগিত হল। হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে সোমবার চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করেছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার।

একই দিন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমও আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন। নির্বাচন স্থগিত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছে বিএনপিসহ বিভিন্ন দল। বিএনপি অভিযোগ করছে, পরাজয় আঁচ করে সরকারই ষড়যন্ত্র করে এ নির্বাচন আটকে দিয়েছে।