আজ  শুক্রবার, ২৪ নভেম্বর, ২০১৭

স্থানীয়দের চাকরি দিতে এমপি বদির হুমকি

mp-bodi_60701_1508125795

অনলাইন সংস্করণ : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের চাকরি না দিলে কোনো এনজিও প্রতিষ্ঠানকে উখিয়া-টেকনাফে কাজ করতে দেয়া হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি। রোববার জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুমকি দেন।

উখিয়া-টেকনাফের এ সংসদ সদস্য বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাকরির ক্ষেত্রে ৮০ শতাংশ স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ এখানকার মানুষ নিজেদের অসুবিধায় ফেলেই নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছেন। এতে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অধিক মূল্য গুনতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক নিন্ম মধ্যবিত্ত পরিবারে আর্থিক সংকট দেখা দিয়েছে। তাই স্থানীয় শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরিতে অগ্রাধিকার দিতে হবে। তা না হলে কোনো এনজিও প্রতিষ্ঠানকে উখিয়া-টেকনাফে কাজ করতে দেয়া হবে না।

জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় এমপি বদি আরও বলেন, উখিয়া-টেকনাফ আমার এলাকা। এখানকার মানুষ যাতে অধিকার বঞ্চিত না হন সেদিকে খেয়াল রাখা আমার নৈতিক দায়িত্ব। রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর এক কিলোমিটারের মধ্যে যেসব স্থানীয় মানুষ রয়েছেন তাদের ভিজিএফের আওতায় আনতে হবে।

তিনি উখিয়া-টেকনাফের শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা বরাবর জীবন বৃত্তান্ত দেয়ার আহ্বান জানান।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনোয়ারুল নাসেরের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল) লে. কর্নেল আনোয়ারুল ইসলাম ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান চৌধুরী। এ সময় সরকারি বিভিন্ন দফতরের পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাজ করছে অসংখ্য জিও-এনজিও এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে রয়েছেন কয়েক হাজার কর্মী। কিন্তু এর অধিকাংশই নিয়োগ পান বিদেশি বা দেশের অন্য কোনো অঞ্চল থেকে। স্থানীয় শিক্ষিত যুবক-যুবতীরা আবেদন করলেও অধিকাংশ সময় বিভিন্ন অজুহাতে তাদের চাকরিতে নেয়া হয় না। এ নিয়ে একাধিকবার মানববন্ধনসহ স্মারকলিপিও দিয়েছেন স্থানীয় বঞ্চিতরা।