আজ  সোমবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৭

স্বস্তি প্রকাশের পর কাঁদলেন ওসি আলমগীর

মুফতি হান্নানের ফাঁসি

M1

আইএনএন২৪বিডি.কম :

সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর বোমা হামলা মামলার প্রধান আসামি মুফতি হান্নান ও তার দুই সহযোগীর ফাঁসির রায় ইতোমধ্যে কার্যকর হয়েছে। ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সে সময়ে বোমার আঘাতে মৃত্যুর হাত থেকে বেঁচে যাওয়া বর্তমানে চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন মজুমদার। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার প্রতিটি রাত কাটে স্প্রিন্টারের ভয়াবহ যন্ত্রণা নিয়ে। মাঝে মাঝে স্প্রিন্টারের ব্যথা এমনভাবে আমাকে ঘায়েল করে যে, মনে হয় পা’টি কেটে ফেলে দিই। এমন করতে করতে আমি একদিন মৃত্যু পথযাত্রী হয়ে যাব। এটা ভাবতে থাকলে আমার আর কিছুই ভালো লাগে না।

মুফতি হান্নানসহ প্রধান তিন আসামির ফাঁসি হওয়ায় বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ওসি আলমগীর হোসেন মজুমদার। তিনি আরও বলেন, সে সময় আমি সিলেটের সদর থানায় এসআই হিসেবে দায়িত্বে ছিলাম। ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত আনোয়ার চৌধুরী হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজার পরিদর্শনে এলে তার নিরাপত্তা দিতে গিয়ে গ্রেনেড হামলার সম্মুখীন হই। সে সময় ঘটনাস্থলেই এসআই কালামসহ তিনজন নিহত হন। প্রায় ৫০ জন আহত হন। আমার দুই পায়ের উরুর মাংস উড়ে যায় এবং বাম পা ক্ষতবিক্ষত হয়ে একটি আঙুল পুড়ে যায়। আমার প্রচ- রক্তক্ষরণ হয়। আমার বাকশক্তি হারিয়ে যায়। আমি কথা বলতে পারছিলাম না। দায়িত্বপ্রাপ্ত এসআই প্রদীপ কুমার এবং এসআই শিবলী আমাকে উদ্ধার করে ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরদিন তৎকালীন পুলিশ কমিশনার শহীদুল হক আমাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন। বিশেষ ব্যবস্থাপনায় সিএমএইচ হাসপালে ভর্তি করান। সিএমএইচে পর পর দুদিন আমার পায়ে জটিল অপারেশন হয়। প্রায় ২০ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকরা জানান, আপনি বেঁচে আছেন তাতেই শুকরিয়া আদায় করেন। আমাদের যত চিকিৎসা ছিল তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমি তাতে অর্ধেকও সুস্থবোধ করিনি। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য আমি ব্যক্তিগত খরচে ভারতের কলকাতা ও মাদ্রাজের এ্যাপোলো হাসপাতালে তিন মাস ডা. ভেংকটস স্বামীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিয়ে মোটামুটি সুস্থ হয়ে দেশে আসি। ভারতে যাওয়ার সময় ভিসা পাইতে গিয়েও অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি। গত ২০০৪ সালের ২১ সেপ্টেম্বর সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে ঘটে যাওয়া গ্রেনেড হামলার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

ওসি আলমগীর বলেন, চিকিৎসা শেষে কর্মে নিযুক্ত হতে গিয়ে অনেক হয়রানির শিকার হয়েছি। পুলিশ ডিপার্টমেন্ট থেকে সহানুভূতি পাওয়ার পরিবর্তে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় এবং বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। আমাকে আনফিট হিসেবে ঘোষণা করার জন্য একটি মহল উঠে পড়ে লাগে। আল্লাহর অশেষ রহমতে যারা আমাকে চাকুরিচ্যুত করতে চেষ্টা করেছিল, তারাই আজ চাকুরিচ্যুত হয়েছে। সব বাধা-বিপত্তি পাশ কাটিয়ে এখনো মানুষের সেবা করে যাচ্ছি। সেই গ্রেনেড হামলার আসামি মুফতি হান্নানসহ ৩ জনের ফাঁসি হওয়ায় আমি সন্তোষ প্রকাশ করছি ও আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছি। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়ায় যারা আহত এবং বেঁচে আছে তাদের জন্য আজ সান্ত¡নার দিন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহনের জন্য সরকার থেকে কোনো অনুদান দেওয়া হয়নি। এমনকি পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট থেকেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। প্রায় ৭ লাখ টাকা আমার চিকিৎসা বাবদ ব্যয় হয়েছে। ২০০৭ সালে সরকার থেকে ১ লাখ টাকা অনুদান পাই। তিনি আরও বলেন, পুলিশ দায়িত্ব পালন করতে এসে এবং আইনশৃঙ্খলার সহযোগী হিসেবে জনগণও বিভিন্ন জঙ্গি হামলায় আহত নিহত হচ্ছে। সরকারের উচিত আহত ও নিহত সদস্যদের ওয়েলফেয়ারের ব্যবস্থা করা এবং আহতদের দেশ-বিদেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা।