আজ  বুধবার, ১৭ জানুয়ারি, ২০১৮

ফের প্রমাণিত হলো বিএনপি রাজাকারের দোসর : প্রধানমন্ত্রী

1490635795
আইএনএন২৪বিডিডটকম :   প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালন না করে বিএনপি-জামায়াত জোট আবারো প্রমাণ করেছে তারা একাত্তরের ঘাতক রাজাকার-আলবদরদের দোসর। এই রাজনৈতিক গোষ্ঠী দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না। তারা দেশের মুক্তিকামী ও স্বাধীনতাকামী জনগণ নয়, একাত্তরের ঘাতক-যুদ্ধাপরাধী-আলবদর ও পরাজিত পাকিস্তানকেই আপন মনে করে। যারা পরাজিত শক্তির পদলেহন করে, খুনিদের মদদ দেয়, যুদ্ধাপরাধীদের মন্ত্রী বানায়, গণহত্যা দিবস পালন করে না- তারা কখনোই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণ করতে পারে না- এ কথাটি দেশের জনগণকে অনুধাবন করতে হবে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের মাটিতে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের স্থান হবে না। তাদের বিরুদ্ধে সরকারের পক্ষ থেকে যা যা করার তা সবই করা হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানও চলবে, দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাও সচল রাখা হবে।

 

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল সোমবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ ৩৪ মিনিট বক্তৃতায় দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর অবদান, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান অব্যাহত রাখা এবং বিএনপির অপরাজনীতির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযানেই গেলেই কাদের মনে কষ্ট লাগে, মনবেদনার সৃষ্টি হয় তা দেশবাসীর সামনে স্পষ্ট। কীভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের রক্ষা করবে, তাদের অপকর্ম কীভাবে ঢাকবে সেজন্য একই ভাঙা রেকর্ড তারা বাজিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে আমাদের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। আমরা চাই না দেশে কোনো জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদের সৃষ্টি হোক। বিএনপি-জামায়াত জোটের অগ্নিসন্ত্রাস, জ্বালাও-পোড়াও যেভাবে দেশের মানুষ মোকাবিলা করেছে, এখন সময় এসেছে এসব জঙ্গি-সন্ত্রাসীদেরও ঐক্যবদ্ধভাবে মোকাবিলা ও প্রতিহত করার। তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইসলাম শান্তি ও পবিত্র ধর্ম। ইসলামে আত্মহনন মহাপাপ। কিন্তু ইসলাম ধর্মের নামে জঙ্গিবাদ ও আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে মুষ্টিমেয় একটি গোষ্ঠী বিশ্বের সব মুসলমানদেরই বিশ্বের সামনে হেয় করছে। আত্মহনন করে মানুষ মারতে পারলেই নাকি জান্নাতে যাবে, সঙ্গে আরও ৭০ জনকে নিয়ে যেতে পারবে! এ পর্যন্ত যারা আত্মঘাতী হয়েছে তারা কী জান্নাতে গেছে নাকি দোজখে গেছে? কেউ (আত্মঘাতী) কি এ ব্যাপারে কোনো ম্যাসেজ পাঠিয়েছে, কেউ কী সেই ম্যাসেজ পেয়েছে? আসলে এরা পবিত্র ও শান্তির ধর্ম ইসলামকেই হেয় করছে। এসব মুষ্টিমেয় কিছু লোক পুরো মুসলমানদের জীবনই অতিষ্ঠ করে তুলেছে। বাড়ি ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়িওয়ালাদের আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাকে বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন তারা কী করে, কোথায় থেকে এসেছে তা ভালো করে জেনেই ভাড়া দেবেন। নইলে ক্ষতি আপনাদেরই হবে। আর দেশবাসীর কাছেও আমার অনুরোধ, যে যেখানেই আছেন খোঁজ নিয়ে যারা জঙ্গিবাদের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন। জঙ্গিদের কোনো ঠাঁই এ দেশে হবে না। এদের বিরুদ্ধে যা যা করার তা সবই করা হবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী টাইগারদের শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট ও ওয়ানডে জয়ের কথা তুলে ধরে বলেন, একদিকে খেলা অন্যদিকে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে অভিযান- এই দুই টেনশন নিয়েই আমাদের চলতে হচ্ছে। একদিকে আমাদের আনন্দের খবর, অন্যদিকে জঙ্গিদের তত্পরতা।

 

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন পরে হলেও এবারই প্রথম সরকারিভাবে গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। ৯ ডিসেম্বরকে জাতিসংঘ আন্তর্জাতিকভাবে গণহত্যা দিবস ঘোষণা করেছে। এর ফলে যেসব দেশে গণহত্যা হয়েছে, সেসব দেশের গণহত্যা দিবসটি পালনের সুযোগ হয়েছে। তিনি বলেন, পুরো দেশের মানুষ গণহত্যা দিবস পালন করলেও একটিমাত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী বিএনপি-জামায়াত জোট দিবসটি পালন করেনি। এর মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তাদের চরিত্র আরও স্পষ্ট হয়েছে।

 

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, কেন্দ্রীয় নেতা ও ডাকসুর সাবেক ভিপি আকতারুজ্জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ। সভা পরিচালনা করেন প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।