আজ  বুধবার, ২৩ অক্টোবর, ২০১৯

১৭ বছরেও শেষ হচ্ছে না রুবেল-কুলসুমের পারিবারিক কলোহ : মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি স্ত্রীর

images-696x400

মতলব প্রতিনিধ ◊
আজ থেকে ১৭ বছর আগে প্রেম করে পালিয়ে বিয়ে করেন রুবেল ও কুলসুম। রুবেল তখন ৮ম শ্রেণীর ছাত্র। কিছুদিন সংসার করার পরই শুরু হয় পারিবারিক কলোহ। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তর্ক-বির্তক আর গালমন্দ রুটিন ওয়ার্ক। এভাবেই চলতে থাকে তাদের সংসার জীবন। বহুবার তাদের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ দেখা দেওয়ার পর গ্রাম্য শালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তা সমাধান হয়। কিন্তু তা আর স্থায়ী হয় না।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত রেল কর্মকর্তা শাহজাহান সরকারের ছেলে রুবেল সরকার এবং একই গ্রামের হামিদ আলী বেপারীর মেয়ে কুলসুম আক্তার। দম্পত্য জীবনে তাদের ঘরে চার ছেলে সন্তান রয়েছে।

তাদের সাংসারিক কলোহের জেড়ে রুবেলের স্ত্রী মামলাও করেছিলেন। তাও নিষ্পত্তি হয়েছে। কিন্তু নতুন করে আবার তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিচ্ছে। এ নিয়ে দু’টি পরিবারই অশান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। সর্বশেষ ৬ জুন ঈদুল ফিতরের পরদিন সকালে তাদের মধ্যে খাবার নিয়ে ঝগড়া হয়। তারপর এক পর্যায়ে তাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে হাতাহাতিও হয়। ওই দিন সন্ধ্যার পরই কুলসুম তার জিনিসপত্র, স্বর্ণালংকার ও ঘরে থাকা টাকা নিয়ে পিতার বাড়ি চলে যান। তারপর পিত্রালয়ে থেকে তিনি রুবেল ও তার পরিবারকে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে বিভিন্নভাবে হুমকি দেন।

রুবেল সরকার বলেন, কুলসুম আমার স্ত্রী ঠিক, কিন্তু সে কখনোই আমার কথা মত চলে না। আমার বাবা মায়ের সাথে ছোট খাট বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে। আমি কিছু বললে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এভাবে দিনের পর দিন ধৈর্য্য ধরে কাটাচ্ছি। কিন্তু সে তার ভুল বুজতে চেষ্টা করছে না। এসব নিয়ে সে আমার বিরুদ্ধে মামলাও করেছিল। কিন্তু মিথ্যা মামলা করায় তা খারিজ হয়ে যায়। তারপর আমার ছেলে সন্তানদের কথা ভেবে আমি তাকে পুণরায় গ্রহন করে সংসার শুরু করি। ঈদের পর দিন সেমাই নিয়ে আমার পিতা-মাতার সাথে ঝগড়া করে। আমি তাকে চুপ করতে বলায় আমার দাঁড়ি টেনে ছিঁড়ে ফেলে। পরে আমি বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সন্ধ্যার পরে ঘর থেকে পোষাক, ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে সে পিত্রালয়ে চলে গেছে। তাকে মুঠোফোনে জিজ্ঞাসা করলে সে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলে হুমকি দেয়। আমি এসব ব্যাপারে সুষ্ঠু বিচার চাই।

রুবেলের পিতা শাহজাহান সরকার বলেন, আমি শুরু থেকেই রুবেলের স্ত্রীকে মেয়ের মত আদর স্নেহ করি। কিন্তু সে মাঝে মাঝে ঝগড়া করে ও এমন আচরণ করে যা কোন মানুষ মানুষের সাথে করতে পারে না। এভাবে আমাদের মান সম্মান সবকিছু সে শেষ করে দিচ্ছে। রুবেলের মা রিনা বেগম বলেন, কুলসুম আমার ঘর থেকে পোষাক, ৪ ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার ও ১ লাখ ৫০ হাজার টাকাসহ যা পেয়েছে হাতের কাছে সব নিয়ে গেছে। ওই সময় আমাকে ছাড়া আর কেউ ঘরে ছিলাম না। আমি হৃদ রোগী হওয়ায় তাকে বাঁধা দিতে পারিনি।

এসব ব্যাপারে এলাকাবাসী দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও তাদের বিরোধ মেটাতে পারেনি। এদিকে কুলসুম বেগমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমি সংসার করতে চাই। কিন্তু কোন বিষয় নিয়ে কথা কাটা-কাটি হলে আমার স্বামী রুবেল আমাকে মারধর করে। তাই ঈদের পর দিন আমি রাগারাগি করে চলে এসেছি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি আসার সময় কিছুই আনি নাই। আমার বড় ছেলে তার পোষাক ও জিনিসপত্র নিয়ে এসেছে।