আজ  শুক্রবার, ১৯ অক্টোবর, ২০১৮

৩২ ধারায় কোনো সাংবাদিককে ধরা হলে তার পক্ষে বিনা পয়সায় আদালতে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী

image-68142-1517910597

আইএনএন২৪বিডি.কম : মন্ত্রিসভায় অনুমোদন করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারায় কোনো সাংবাদিককে ধরা হলে তার পক্ষে বিনা পয়সায় আদালতে লড়ার ঘোষণা দিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

মন্ত্রী বলেন, এই আইনের কোনো ধারাই সাংবাদিকদের জন্য করা হচ্ছে না। আর খসড়া আইনের ৩২ ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকের জন্য বাধা হবে না।

আইনটি পাস করার আগে সাংবাদিকদের বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হবে বলেও আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টারস ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সুপ্রিমকোর্ট বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন ‘ল রিপোর্টার ফোরাম’ আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন আইনমন্ত্রী। এ সময় তার কাছে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা ছাড়াও উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ, খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাসহ নানা প্রশ্ন রাখেন সাংবাদিকরা।

৩২ ধারায় সাংবাদিকের জন্য বিশেষ সুরক্ষা থাকবে

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা থেকে সাংবাদিকদেরকে বিশেষ সুরক্ষা দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়সঙ্গত কারণ থাকলে দরকার হলে জনস্বার্থে ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার সুরক্ষায় ৩২ ধারায় একটি সাব সেকশন অন্তর্ভুক্ত করা হবে।’

গত ২৯ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন হওয়া আইনটি পাসের জন্য সংসদে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। তবে অনুমোদনের পর থেকেই খসড়া আইনের ৩২ ধারা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। এই ধারাটির কারণে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে সমালোচনা করে আসছেন সাংবাদিকরা।

এই ধারায় বলা আছে, ‘যদি কোনো ব্যক্তি বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে কোন সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্বশাসিত বিধিবদ্ধ সংস্থার কোন গোপনীয় বা অতি গোপনীয় তথ্য-উপাত্ত কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস বা কম্পিউটার নেটওয়ারর্কে ধারণ, প্রেরণ, সংরক্ষণ করেন বা করতে সহায়তা করেন তাহলে সেটা হবে গুপ্তচরবৃত্তির অপরাধ।’

এই ‘গুপ্তচরবৃত্তির’ সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছর জেল বা সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা জরিমানা। কেউ যদি এই অপরাধ দ্বিতীয়বার বা বারবার করেন, তাহলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড ভোগ করতে হবে।

এই ধারার কারণে গোপনে চিত্র ধারণ করে সাংবাদিকরা বন্ধ হয়ে যাবে কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলতে চাই ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্টের ৩২ ধারা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় কোনো  বাধা হবে না।’

‘আর অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা করার জন্য যদি কোনো সাংবাদিককে ৩২ ধারায় অভিযুক্ত করা হয় তাহলে আমি একজন আইনজীবী হিসেবে বিনা ফিতে তার জন্য আদালতে দাঁড়াব।’

তবে ৩২ ধারার কারণে সাংবাদিকরা ঝামেলায় পড়বেন না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আপনি একটা তথ্য নিয়ে গেলেন এটা কিন্তু গুপ্তচরবৃত্তি নয়। একটা অপরাধের জন্য মূল বিষয় হলো মেনসরিয়া (অপরাধমূলক মন)। আপনি একটি রিপোর্টিং করলেন এটাতে কিন্তু আপনার অসৎ উদ্দেশ্যে। এক্ষেত্রে আপনি ৩২ ধারায় পরবেন না।’

৩২ ধারায় যেসব অপরাধের উল্লেখ রয়েছে সেগুলো দণ্ডবিধিতেও রয়েছে বলে দাবি করেন আইনমন্ত্রী। বলেন, ‘তবে ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে ওই অপরাধগুলো হলে এখন ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে বিচার হবে।’

‘যেমন, রিজার্ভ ব্যাংকের টাকা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে লুট করা হয়েছে। এক্ষেত্রে কি আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করব না? এসব ক্ষেত্রে বিচারের জন্যই তো এই ধারা রাখা হয়েছে।’

তথ্যপ্রযুক্তি আইনের সমালোচিত ৫৭ ধারার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের কথা দিয়েছিলাম ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হবে, বিলুপ্ত হয়েছে। ৫৭ ধারাতে বিভিন্ন অপরাধে সাত থেকে চৌদ্দ বছর মেয়াদে সাজার বিধান ছিল। তাছাড়া ওই আইনে অপরাধগুলো স্পষ্ট ছিল না। ছোট অপরাধ করলে ছোট সাজা ও বড় অপরাধ করলে বড় সাজা প্রদানের বিধান রয়েছে।’

উচ্চ আদালতে নিয়োগে আইন প্রক্রিয়াধীন

এ সময় সাংবাদিকরা উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ বিষয়েও প্রশ্ন রাখেন। এ বিষয়ে কোনো আইন বা নীতিমালা না থাকায় প্রায়ই বিচারক নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে সরকারের কোনো আইন করার ইচ্ছা আছে কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার বিরুদ্ধে সুর্নির্দিষ্টভাবে ১১টি অভিযোগ আনা হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা কেন নেয়া হয়নি, আর হলে কবে নেয়া হবে-এমন প্রশ্নও ছিল সাংবাদিকদের।

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। তার মানে এই অভিযোগ যখন হয়েছে, যেই কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান বা তদন্ত করা উচিত তারা করবে।’