আজ  বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

আ’লীগের সম্পাদক পদে খাট তালিয়কার আলোচনায়ও দীপু মনি

আওয়ামী লীগে কাউন্সিল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে আগামী ২০ এবং ২১ ডিসেম্বর। কাউন্সিল অধিবেশন নিয়ে নানামুখী আলোচনা হলেও প্রধান আকর্ষণ হলো দলের সাধারণ সম্পাদক পদে কে আসছেন তা নিয়ে। আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের যে পরিবর্তন হবে না তা মোটামুটি নিশ্চিত। দলের সকল নেতাকর্মী মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কোনো বিকল্প নেই, একমাত্র তার নেতৃত্বেই আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে। সম্পাদক পদে গনমাধ্যমে দীর্ঘ তালিকায় যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ দীপু মনি আলোচনায় ছিলেন। এবার খাট তালিকায়ও সম্পাদক পদে আলোচনায় তিনি।
এই বিবেচনায় সভাপতি পদে যে অন্য কেউ আগ্রহী হবেন না এবং দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও যে অন্য কাউকে মেনে নেবে না সেটা মোটামুটি নিশ্চিত। কাজেই এবারের সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে মূল আলোচনা। এই আলোচনা জমে উঠেছে যখন আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ইঙ্গিত করেছেন একজন পূর্ণকালীন সাধারণ সম্পাদকের ব্যাপারে। তিনি জাতির পিতার উদাহরণ দিয়ে বলেছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করেছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালনের জন্য। তাই সাধারণ সম্পাদক পদ নিয়ে নানামুখী জল্পনা কল্পনা হচ্ছে।
যদিও মনে করা হচ্ছে যে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন আব্দুর রাজ্জাক। কিন্তু আওয়ামী লীগের একাধিক সূত্র ইঙ্গিত দিয়েছে সাধারণ সম্পাদক পদে শেষ পর্যন্ত চমকও দেখা যেতে পারে। যাদেরকে নিয়ে ভাবা হচ্ছেনা এমন কেউ দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে চমক দেখাতে পারেন। এরকম ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে যারা আলোচনায় আসছেন তাদের মধ্যে অন্যতম শিক্ষামন্ত্রী ড. দীপু মনি। দীপু মনিকে আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নন এবং আগ্রহী নন। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভাপতির স্নেহভাজন এবং যখন যে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তা সে দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক এবং নারীর ক্ষমতায়নের যুগে তিনি যদি সাধারণ সম্পাদক হন- সেটা চমক হলেও আশ্চর্যজনক হবে না।
ড. হাছান মাহমুদ এখন তথ্যমন্ত্রী। ২০০৯ সালে দ্বিতীয় মেয়াদে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এলে হাছান মাহমুদ প্রথমে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, পরে পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪-১৮ মেয়াদে তিনি মন্ত্রিত্ব না পেলেও দলের কর্মকাণ্ডে সরব ছিলেন। তখনই প্রধানমন্ত্রীর আস্থা অর্জন করেন তিনি। এবার হাছান মাহমুদ তথ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দলের সাধারণ সম্পাদকের পর তিনিই বিভিন্ন বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সরব। বিশেষ করে বিরোধী দলের তীব্র সমালোচনার জন্য তিনি দলের মধ্যে আলোচিত নেতাদের একজন। এ কারণেই তাকে সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য বিবেচনা করা হচ্ছে।
ল্লেখ্য যে, ড. হাছান মাহমুদ এবং ডা. দীপু মনি দুজনই দলের সাধারণ সম্পাদক হলে মন্ত্রিত্ব ছাড়তে রাজি বলে তাদের ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন। এই বিবেচনা থেকে হাছান মাহমুদও এবার সাধারণ সম্পাদকের দৌড়ে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন।
খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু ব্যক্তিগত ক্লিন ইমেজ তার ভাবমূর্তি দলে এবং দলের বাইরে তার গ্রহণযোগ্যতার জন্য তিনি আলোচনায় এসেছেন। সাধারণ মানুষের কাছে তিনি বিশেষ ব্যক্তি হিসেবে ক্রমশ জনপ্রিয় হচ্ছে। বিশেষ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং নৌ এর অবৈধ জমি পুনরুদ্ধারের কাজে তিনি যে সাফল্য দেখিয়েছেন তাতে অনেকই মনে করছেন, যদি শেখ হাসিনা শেষ পর্যন্ত তারুণ্যের উপর নির্ভর করেন তাহলে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ‘ডাক হর্স’ হিসেবে সামনে চলে আসতে পারেন।
আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সব সময়ই চমক থাকে। এ প্রসঙ্গে জিল্লুর রহমানের সাধারণ সম্পাদক হওয়া প্রসঙ্গে বলেন, সেই সময় আব্দুর রাজ্জাক, তোফায়েল আহমেদ, আমির হোসেন আমুর মতো হেভিওয়েটদের আড়াল করে জিল্লুর রহমান সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।
কাজেই সাধারণ সম্পাদক যে সব সময় অনুমিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তি হয় তা নয়। এটা নানা রকম হিসেব নিকেশ করে দল এবং দলের বাইরে নানা রকম বাস্তবতা বিবেচনা করেই আওয়ামী সভাপতি সিদ্ধান্ত নেন। শেষ পর্যন্ত কে সাধারণ সম্পাদক হন এবারও শেখ হাসিনা সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিবেন। (সূত্র: সম্পাদক.কম)20191206_003429