আজ  মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

একটি এম্বুলেন্সে ২ রোগী চাঁদপুরে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া দ্বিগুণ আদায়, চালক মনিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স মনির হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ‌সরকারি রেট অনুযায়ী ভাড়া না নিয়ে রোগীর কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করার অভিযোগ উঠেছে।
অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের একটি গাড়িতে দুই জন রোগী নিয়ে ঢাকায় মেডিকেল হাসপাতালে গিয়েছেন।
মহামারী করোনা ভাইরাসে সামাজিক দূরত্ব বজায় না রেখে অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির হোসেন রোগীর সাথে ৬ জন লোক নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
সরকারি রেট অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটার ১০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও ঢাকা আসা-যাওয়ায় ২০০ কিলোমিটারে ২ হাজার টাকা ধার্য করা হয়।
কিন্তু এম্বুলেন্স চালক মনির হোসেন সরকারের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে রোগীদের কাছ থেকে চার থেকে ছয় হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
সরকারি কোষাগারে টাকা কম দিয়ে বাকি টাকা নিজে আত্মসাৎ করে প্রতি মাসে লক্ষ লক্ষ টাকা অবৈধ পন্থায় ইনকাম করছেন। সেই টাকায় শহরের বেলভিউ হাসপাতালে পিছনে তিনতলা ভবন নির্মাণ করেছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেন।

রবিবার বিকেলে মতলব দক্ষিণ বহরি গ্রামে হামলায় আহত হয়ে মোঃ শামীম ও আয়েশা বেগম চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে আসেন।
রোগীদের অবস্থা অবনতি দেখে কর্তব্যরত ডাক্তার তাদের ঢাকার করেন।
এসময় অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির এই দুই রোগীর কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ভাড়া দাবি করেন।
পরে ৪ হাজার টাকায় দরকষাকষি করে ভাড়া নির্ধারণ হলে রোগী দুজনকে একই এম্বুলেন্সে উঠিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
রোগীর পরিবার মোঃ আল আমিন জানান, আর্থিক সংকটের কারণে প্রাইভেট অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিতে না পারায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির সাথে যোগাযোগ করলে তিনি পাঁচ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে চার হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ হলে দুই রুগীকে নিয়ে ঢাকা রওনা হন।
এদিকে অভিযুক্ত আম্বুলান্স চালক মনির হোসেন জানান,সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রোগীর কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। দুই রোগীর কাছ থেকে ৩ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘ বছর যাবত মনির হোসেন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন। সে সরকারি নিয়ম নীতি উপেক্ষা করে রোগীদের কাছ থেকে দ্বিগুণ ভাড়া হাতিয়ে নিচ্ছেন। গেল কয়েক মাস পূর্বে তার প্রথম স্ত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দিয়ে মেরে ফেলেছেন। সেই ঘটনায় সে ধামাচাপা দিয়ে আরেকটি বিয়ে করে বসবাস করছেন। আর এই অবৈধ টাকায় তিন তলা ভবন করেছেন ও নামে বেনামে বিভিন্ন জায়গায় জায়গা ক্রয় করেছেন। তার বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছেন সচেতন মহল।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মোঃ,০১৭১৩৬৮৮৯২০