আজ  শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরেও শীতের তীব্রতা বাড়ছে

চাঁদপুর: কয়েকদিন ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেলেও ঠান্ডার দাপট রয়ে গেছে। ফলে প্রচ- শীতে কাবু হয়ে পড়েছে চাঁদপুরের চরাঞ্চল, নদী উপকূলীয় এলাকাসহ ৮ উপজেলার শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ। গত শনিবার (২১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর ঠান্ডা বাতাসে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলা বাসীর। শীতের প্রকোপ বাড়ার কারণে গত কয়েকদিন চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে শ্বাসজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু শিশু ভর্তি হয়েছে।
রবিবার (২২ ডিসেম্বর) দিনের বেলায় সূর্য উঠলেও দুপুরের পরে উত্তারাল বাতাসে শীতের তীব্রতা বাড় থাকে।
চাঁদপুর আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানাগেছে, শনিবার সকালে চাঁদপুরের তাপমাত্রা ছিলো ১২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিকেলে আরো কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে আবহাওয়া অফিস জানায়। তবে শৈত্যপ্রবাহ কেটে গেছে। শীতের তীব্রতা আরো বেশ কয়েকদিন থাকতে পারে। ৭২ ঘন্টার মধ্যে তাপমাত্রা কিছুটা বৃদ্ধিপাবে দিন ও রাতে।
আমাদের হাইমচর প্রতিনিধি জানান, হাইমচরে নদী উপকূলীয় এলাকায় শীতের তীব্রতা বেশী। এই এলাকার মানুষ জরুরি কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না। মেঘনা নদীতে জেলেদের সংখ্যাও খবুই কম। হাইমচরে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শীতার্ত মানুষের পাশে শীত বস্ত্র নিয়ে পৌঁছাতে শুরু করেছেন। সরকারি কম্বলও বিতরণ করেছেন একাধিক জনপ্রতিনিধি।
ফরিদগঞ্জ উত্তর প্রতিনিধি জানান, সকাল থেকেই সূর্য না উঠায় জনজীবন অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। শীতের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যহত হচ্ছে। বিশেষ করে দিন মজুর ও দৈনিক হাজিরার শ্রমিকদের বেকায়দায় পড়তে হয়েছে। শীতের কারণে অনেকেই কৃষি জমিতে কাজ করতে পারছে না।
হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি জানান, গত দু’দিনে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বস্তি ও ছিন্নমূল পরিবারের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করেছেন।
চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রহাীমপুর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর পশ্চিম পাড় চরফতেজংপুর ইউনিয়ন প্রতিনিধি জানান, চরাঞ্চলের মানুষের শীতে কষ্টের সীমা নেই। বয়স্ক মানুষগুলো বেশি কষ্ট পাচ্ছে। শীতের কারণে এসব এলাকার মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তাদের পাশে এসে দাঁড়ানো খুবই জরুরি। তবে সরকার থেকে প্রাপ্ত শীতবস্ত্র বিতরণ শুরু হবে খুব শীঘ্রই।
শনিবার সকালে চাঁদপুর অন্ধকল্যাণ সংস্থার সদস্য ১শ’ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর মাঝে কম্বল ও ৫০জন দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে সাদাছড়ি বিতরণ করেছেন। এইসব কম্বল ও সাদা ছড়ি বিতরণের জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন ব্যবসায়ী ও প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজু রহমান। সকালে সংগঠনের কার্যালয়ে আগত অতিথিবৃন্দ এসব শীতবস্ত্র বিতরণ করেন।