আজ  মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে অবশেষে উদ্ধোধনের পূর্বেই স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নদী গর্ভে বিলীন

 

পদ্মা-মেঘনার ভয়াবহ ভাঙ্গনে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বরে নব-নির্মিত তৃতল ভবন বিশিষ্ট স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার অবশেষে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।
ভবনটির চারপাশের মাটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলেও শুধুমাত্র কয়েকটি পিলারের উপর এ ভবনটি বেশ কয়েকদিন দাঁড়িয়ে ছিল। অবশেষে বৃহস্পতিবার ভোর থেকে শুরু করে বিকেল পর্যন্ত নদীতে প্রচন্ড স্রোতের তোপে স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টারটি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে বিলীন হয়ে যায়।
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে এই ভবনটি নির্মাণ হলেও স্থানীয় জনগণের বিন্দুমাত্র কোন কাজে আসেনি।
সরকারের কোটি টাকা বিফলে গিয়েছে ও পদ্মা-মেঘনা নদীতে সাইক্লোন সেন্টারটি ভেঙ্গে না গিয়ে নদীর তলদেশে ডেবে গেছে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২ কোটি ২৯ লাখ টাকা ব্যয়ে মেসাস রিপন ট্রেডার্স ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান নামে কাজটি এনে স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের পারভেজ রনি স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টারের ভবনের কাজটি করেন।
ভবনের কাজটি তড়িঘড়ি করে শেষের পর ঠিকাদার এক মাস আগে এই ভবনটি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানান,
স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণের পূর্বে সাইড সিলেকশনের সময় নদী ৩ কিলোমিটার দূরে ছিল। নদী ভেঙ্গে খুব কাছে আসার পর গত বছর কাজটি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
কিন্তু অদৃশ্য শক্তির বলে ঠিকাদার মেম্বার পারভেজ রনি সদর উপজেলার পিআইও ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে পুনরায় কাজটি করার জন্য অনুমোদন নিয়ে আসে।
ভবনটি তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করে এক মাস পূর্বে হস্তান্তর করে পুরো টাকা নিয়ে নেও ঠিকাদার।
সরকারের এত কোটি টাকা অযথা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে এ কারণে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের অসাধু কর্মকর্তাদের দোষারোপ করছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা করার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন ১ নং ওয়ার্ডের আলী মেম্বার জানায়, বেশ কয়েকদিন যাবত রাজরাজেশ্বর ইউনিয়ন এর লক্ষীরচর এলাকায় প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
এই ওয়ার্ডের লক্ষীরচর এলাকায় স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নির্মাণ করা হলেও তা জনগণের কোনো কাজে আসেনি।
কারণ এটি নির্মাণ করার সময় নদী খুব কাছে ছিল। তখন তারা না বুঝেই এখানে ২ কোটি ২৯ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সাইক্লোন সেন্টারটির কাজ করার অনুমতি দেয়।
বৃহস্পতিবার ভোর থেকে সাইক্লোন সেন্টার পিলারের নিচে মাটি সরে গেলে আস্তে আস্তে ভবনটি পানির নিচে তলিয়ে যায়।স্কুল কাম সাইক্লোন সেন্টার নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ার পর তা দেখার জন্য অনেক লোক এই এলাকায় ভীড় জামাতে দেখা যায়।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০