আজ  বৃহঃবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে ইউপি সদস্য মদ খেয়ে মাতলামি করায় গণধোলাই, প্রতিবাদে এলাকাবাসী বিক্ষোভ

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বার জাহাঙ্গীর খান মদ খেয়ে মাতলামি করায় উত্তেজিত জনতার গণধোলাই দিয়ে তাকে লাঞ্ছিত করেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং ইউপি সদস্যের বাড়ি ঘেরাও করেন।
রবিবার রাত একটায় চান্দ্রা ইউনিয়নের জব্বর ডালি দোকান সংলগ্ন বেরিবাঁধের রাস্তায় উপর এই ঘটনা ঘটে।
এলাকার উত্তেজিত জনতা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মেম্বারের বাড়িতে হামলার চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলে থাকা ইউপি চেয়ারম্যান খান জাহান আলি কালু পাটোয়ারী সবাইকে শান্ত করেন।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি নাছিম উদ্দিনের নির্দেশে পুরান বাজার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই লিটন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
এ সময় বিক্ষুব্ধ জনতা ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খানের কুকর্ম ও মদ খেয়ে মাতলামি করার ঘটনা পুলিশকে অবহিত করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা নাছির মাঝি জানান, প্রতিদিন রাতে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান তার দুই সহযোগীকে সাথে নিয়ে পুরান বাজার মদের কাউন্টারে গিয়ে মদ পান করে এলাকায় এসে মাতলামি করেন।
গত দুইদিন পূর্বে সে অতিরিক্ত মদপান করে তার লোকজন নিয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়।
সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো জাহাঙ্গীর খান মদ খেয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে এসে মাতলামি শুরু করে।
এসময় তার মোটর সাইকেলের পিছনে একটি অপরিচিত মেয়ে বসা ছিল।
এলাকার প্রতিবাদী লোকজন মদ খেয়ে মাতলামি করার প্রতিবাদ করলে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান ঘটনাস্থল থেকে পালাতে গিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে রাস্তার পাশে পালিতে পড়ে যায়।
পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন তার বাড়ি ঘেরাও করলে অবশেষে ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে অভিযুক্ত মেম্বার জাহাঙ্গীর খানের বিচারের দাবিতে এলাকাবাসী জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন।

এদিকে ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর খান জানান, তিন দিন পূর্বে জব্বরডালি দোকানের পশ্চিম পাশে একটি গরু বোঝাই ট্রাক পরে যায়। এই গাড়িটি চান্দ্রা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের লোকজন সহযোগিতা করে রাস্তার পাশ থেকে উঠিয়ে দেয়।
এসময় হানারর্চর ইউনিয়নের কিছু যুবক চাঁদা দাবি করলে তাদের সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
সেই ঘটনায় রবিবার রাতে সালিশী বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা আর হয়নি। সে সময় আমার ছেলে মেহেদুল আলমকে মারধর করায় এর প্রতিবাদ করলে তারা আমাকে লাঞ্চিত করে এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে।
ইউপি চেয়ারম্যান খানজাহান আলী কালু পাটোয়ারী জানান, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর মেম্বারের বাড়িতে হামলার খবর শুনে ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হই।তবে সদস্যকে লাঞ্ছিত করার বিষয়টি উভয় পক্ষের কাছ থেকে জেনে প্রকৃত বিষয়টি বলা যাবে।
এই ঘটনা এখন উত্তেজনা বিরাজ করছে যেকোনো সময় ঘটতে পারে আবারও অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
তাই প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।