আজ  বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় বনফুল সুইটসের মালিকের ভাই জাকির কারাগারে

 

চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নং লক্ষীপুর মডেল ইউনিয়নে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে বেশ কয়েকবার পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনায় মিম বনফুল সুইটসের মালিকের ভাই জাকির হোসেন বেপারিকে কারাগারে প্রেরণ করেছে আদালত ।
ধর্ষণের ঘটনায় ধর্ষিতার বাবা মনির হোসেন বাদী হয়ে চাঁদপুর মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করার পর পুলিশ তাকে আটক করে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ ধর্ষণকারী জাকির হোসেনকে আদালতে প্রেরণ করলেন তার জামিন নামঞ্জুর হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
ধর্ষণকারী জাকির হোসেনকে পুলিশ আটক করার পর থেকে কালিবাড়ি মোড় মিম বনফুল সুইটসের মালিক বাদশা দলবল নিয়ে ধর্ষিতার পরিবারকে হত্যা ও মামলা দিয়ে এলাকা থেকে উচ্ছেদ করবে বলে হুমকি দেয়।
এছাড়া থানার ভিতরে বাদশা বেপারি সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ধর্ষিতার বাবা মামলার বাদী মনির হোসেনকে হাত ধরে টেনে বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।
এ সময় পুলিশকে ঘটনাটি জানানোর পর ধর্ষণকারীর বড় ভাই বাদসাকে থানা থেকে ঘাড় করে বের করে দেওয়া হয়।
জানা যায়,১০ নং লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ড পূর্ব রঘুনাথপুর আউয়াল বেপারি বাড়ির মনির হোসেন বেপারির এক ছেলে এক মেয়ে রেখে তার স্ত্রী তালাক দিয়ে কয়েক বছর পূর্বে চলে যায়।
মনির হোসেন তার দুই সন্তান বাড়িতে রেখে নারায়ণগঞ্জে কাঁচামালের ব্যবসা করেন।
সেই সুযোগে ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণকারী মঙ্গল বেপারির ছেলে জাকির হোসেন বেপারি(২৬) গভীর রাতে দরোজা ভেঙ্গে ভিতরে ঢুকে কয়েকদিন ধর্ষণ করে। এই ঘটনা সবাইকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে লম্পট জাকির হোসেন ধর্ষিতা কিশোরীকে বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে।
এভাবে স্কুলছাত্রী কিশোরীকে পালাক্রমে তার ঘরে ঢুকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করে।
পরে ওই কিশোরী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি তার পরিবারের লোকজনদের জানায়।
এই ঘটনা জানতে পেরে কিশোরীর বাবা মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের এসে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদ করে।
কিন্তু ধর্ষণকারীর বড় ভাই কালিবাড়ির মোড় মীম বনফুল সুইটস দোকানের মালিক বাদসা ধর্ষিতার বাড়িতে গিয়ে তার বাবা ও পরিবারকে হত্যার হুমকি দেয়। দুই মাসের মধ্যে তাদেরকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে আগুন লাগিয়ে দিবে বলে জানিয়ে আসে।
ধর্ষিতা স্কুলছাত্রীর বাবা মনির জানান, বাড়িতে একা পেয়ে মেয়েকে ঘরে ঢুকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে।এই ঘটনা ধর্ষণকারী জাকির টাকার বিনিময়ে সমঝোতা করার চেষ্টা করে প্রস্তাবে রাজি না হলে তার ভাই বাদসা এসে হত্যার হুমকি দিয়ে যায়। আমরা এই ধর্ষণকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি জানাই।