আজ  শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে দি ইউনাইটেডে হাসপাতালে নবজাতক বিক্রির ঘটনায় তোলপাড়

 

চাঁদপুরে দি ইউনাইটেড হাসপাতালে নবজাতক শিশু লাখ টাকায় বিক্রির ঘটনায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল এবং শহরজুড়ে তোলপাড় চলছে।
দি ইউনাইটেডে হাসপাতালে ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক এস এম শাহ আলম রবিনের স্ত্রী নার্স সেতু অনেক নবজাতক শিশু লক্ষ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
হাসপাতালের একজন নার্স হয়ে সেতু নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে চলছে।
এই হাসপাতলে অনেক অবৈধ গর্ভপাত করে সেই নবজাতক শিশু বিক্রি করে তারা লাখপতি বনে গেছেন।
সম্প্রতি গত ১১ ডিসেম্বর এ হাসপাতালে সপ্তম শ্রেণীর একটি ছাত্রীর পরিবারের কাছ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময় অবৈধ গর্ভপাত ঘটায়। সেই শিশুটি হাসপাতালে ৩০৩ নাম্বার বেডে নিয়ে রেখে বিক্রির জন্য পার্টির সাথে দর কষাকষি শুরু হয়।
এই ঘটনা জানাজানি হলে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নবজাতকের মা বিল পরিশোধ না করে পালিয়ে যায় বলে গত ১৭ ডিসেম্বর চাঁদপুর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন হাসপাতালের মালিক (নার্স) সুলতানা আক্তার সেতু।
এই কথাটি কৌশলে সংবাদকর্মীরা সেতুর কাছে জানতে চাইলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে তা স্বীকার করে। এসময় তার কথোপকথন ভিডিও ও রেকর্ডিং করা হয়।
সেতু ও হাসপাতালের অফিস সহকারী ফারুকের ফোন আলাপের ভিডিও রেকর্ডিংয়ে তোর সারে যে শিশু বাচ্চা বেচতো কইছে হেন কত টাকা কইছে, ফারুক : আচ্চা ম্যাডাম, আমি স্যারের সাথে কথা বলে জানাইতেছি। সেতু : না না কথা বলিস না এখন। ফারুক : তাহলে আমি আমার পার্টির সাথে আলাপ করে জানাইতেছি। সেতু এবং ফারুকের আলাপে বারবার স্যার এসেছে। সেই স্যার হচ্ছে তার স্বামী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক এস এম শাহ আলম রবিন।

হাসপাতালের আরেক মালিক ডা. ইফতেখার উল আলম জানান, ‘আসলে তাদের আমি বিশ্বাস করে তাদের সাথে এতদিন ব্যবসা করেছি। কিন্তু তারা যে পেশার আড়ালে এমন ন্যক্কারজনক কাজ করছে তা আমার ধারণার বাইরে ছিল। তারা যে এত জঘন্য তা আমার জানা ছিল না।
এরপরই চেয়ারম্যানসহ হাসপাতালে অন্যান পার্টনাররা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তাদের সাথে আমরা আর ব্যবসা করব না।
এদিকে এই হাসপাতালের বিরুদ্ধে সিভিল সার্জন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করার কারণে জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। এ সকল হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করলে এ ধরনের অবৈধ গর্ভপাত অনেকাংশে কমে আসবে ও শিশু বাচ্চা বিক্রি বন্ধ হয়ে যাবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।