আজ  বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুরে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিবাহ,  কাজীর সহযোগিতায় দ্রুত বিয়ে সেরে পলায়ন

চাঁদপুরের গ্রাম গঞ্জে প্রতিদিনই কোন না কোন জায়গায় বাল্যবিবাহ হচ্ছে।
সরকার বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করলেন নতুন কৌশল অবলম্বন করে অসাধু কাজিরা বাল্যবিবাহ পড়াচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বাল্যবিবাহ রোধে এই এলাকায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দিন দিন এর প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে।
চাঁদপুর সদর ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের ইউনিয়ন পরিষদের পিছনে ডালি বাড়িতে নবম শ্রেণীর ছাত্রীর বাল্য বিবাহ হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটায় ইউনিয়ন পরিষদের নাকের ডগায় মজু ডালির মেয়ে মিতু আক্তারের বাল্যবিবাহ হয়েছে।
মিতু আক্তার হরিনা চালতাতলী স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী, বর্তমানে তার বয়স ১৬ বছর।
হানারচর ইউনিয়নের ইউনিয়নের কাজী কালু খুব সুকৌশলে তিন লক্ষ টাকা কাবিনে ভুয়া রেজিস্ট্রি খাতায় স্বাক্ষর রেখে মজু ডালির মেয়ে মিতু আক্তারের
সাথে হাইমচর উপজেলার জুয়েলের সাথে এই বাল্যবিবাহ পড়িয়েছেন।
পুলিশ আসার খবর শুনে তড়িঘড়ি করে কাজী বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
এর কিছুক্ষণ পরই তার পরিবারের লোকজন বাড়ি থেকে বর কনেকে নিয়ে বের হয়ে বিয়ের গাড়িতে উঠেয়ে দ্রুত পাঠিয়ে দেয়।
এই ঘটনায় মেয়ের বাবা মজু ডালী জানান, কাজের মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা কাবিনে বিয়ে পড়ানো হয়েছে। কাজী বিয়ে করিয়ে দ্রুত বাড়ির পিছন দিয়ে চলে যায়।
এদিকে অভিযুক্ত কালু কাজী জানায়, মেয়ের বয়স অল্প হওয়ায় কাবিন করানো হয়নি। পাশের মসজিদের হুজুর এর কাজ সম্পন্ন করেছে।
তবে বিষয়টি বাড়াবাড়ি না করে সমাধান করে নেওয়া ভালো, আর কখনোই এই ধরণের ঘটনা ঘটবে না।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায, হানারচর ইউনিয়ন প্রতি মাসে প্রায় ১৫/২০ বাল্যবিবাহ হচ্ছে। আর এই বাল্য-বিবাহিতা পড়ানোর মূল হোতা ইউনিয়নের কাজী। সে এই বাল্যবিবাহ পড়াচ্ছে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।