আজ  বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর আহমেদ শপিং সেন্টারে গৃহ পরিচালিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা

 

মাসুদ হোসেন সাগর//চাঁদপুর শহরের পৌরসভা সংলগ্ন আহমেদ শপিং সেন্টারে তাসলিমা আক্তার(২৮) নামে গৃহপরিচারিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মঙ্গলবার রাত দশটায় আহমেদ শপিং সেন্টারের তৃতীয় তলা আবাসিক বাসায় এই ঘটনা ঘটে।
গৃহপরিচালিকা তাসলিমা দরজা বন্ধ করে ফ্যানের সাথে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
মানসিক রোগী হাওয়ায় সে নিজেই আত্মহত্যা করেছেন বলে বলে দাবি করেছেন বাসার মালিক বিউটি বেগম।
নিহত তাসলিমা আক্তার ঝালকাঠি জেলার আসলাম খানের মেয়ে।
খবর পেয়ে চাঁদপুর মডেল থানার ওসি নাছিম উদ্দিন, তদন্ত ওসি হারুনুর রশীদ, ইন্সপেক্টর জাহাঙ্গীর আলম ,এসআই জয়নাল ঘটনাস্থলে এসে খোঁজ খবর নেন।
ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই চাঁদপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে এসে গভীর পর্যবেক্ষণ করেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনাটি জানার চেষ্টা করেন।
এসময় তিনি আহমেদ শপিং সেন্টারের মালিক জাবেদ আহমেদের স্ত্রী বিউটি বেগম ও তার পরিবারের লোকজনের কাছ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
বিউটি বেগম জানায়, দীর্ঘ ১১ বছর পূর্বে তাসলিমা আক্তারকে গৃহপরিচালিকা হিসেবে কাজ করার জন্য আনা হয়। তাসলিমা আক্তার কাজে আসার পূর্বে মতলব দক্ষিণ নায়েরগাঁও গ্রামের জনৈক নাসিরের সাথে বিয়ে হয়। নাসিরের সাথে সংসার ভেঙ্গে যাওয়ার পর তাসলিমা আক্তার দিয়ে গৃহপরিচালক হিসেবে কাজে যোগ দেয়। এর মধ্যে তার বাবা মা মারা যাওয়ায় তিন বছর পূর্বে সে মানসিক রোগে আক্রান্ত হলে তাকে ডাক্তার দেখিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার দিন রাতে সে দরজা আটকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। দরজা না খোলায় ভাসুরের ছেলে তৌফিক আহমেদকে জানালে সে দরজা ধাক্কা দিয়ে খুলে ভিতরে ঝুলন্ত অবস্থায় তাসলিমা আক্তারকে দেখতে পায়।
এই ঘটনায় সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দেখার ও বুঝার অনেক বাকি রয়েছে তদন্ত শেষ হওয়ার পর সব কিছু বলা যাবে। তবে আমাদের কাজ শেষ হয়নি শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ঘটনা ও মৃত্যুর কারণ বলা যাবে।
এদিকে গেল বছর আহ্মেদ শপিং সেন্টারের মালিক জাবেদ আহমেদের একমাত্র ছেলে ফোরকান আহমেদ সায়েনের গায়ে গরম পানি পড়ে জ্বলছে গিয়ে করুণ মৃত্যু হয়েছে।
ওই ঘটনাটি শেষ না হতেই আবারও একই বাসায় গৃহপরিচালিকা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
এদিকে আহমেদ শপিং সেন্টারে পরিচালিকা আত্মহত্যার ঘটনা জানতে পেরে শত শত লোক এসে ভিড় জমায়। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং লাশ সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করার জন্য থানায় নিয়ে যান।