আজ  মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর চান্দ্রায় মসজিদের নামে অনুদান এনে রড ও টাইলস আত্মসাৎ,মুসল্লিদের বিক্ষোভ

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা ১২ নং চান্দ্রা ইউনিয়নের মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি নেয়ামত উল্লাহ খন্ধকারের বিরুদ্ধে মসজিদের নামে রড ও টাইলস অনুদান এনে নিজেই আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই ঘটনায় শুক্রবার দুপুরে চান্দ্রা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড দক্ষিণ বালিয়া গ্রামের খন্দকার বাড়ী জামে মসজিদ কমিটির সদস্য ও মুসল্লীরা বিক্ষোভ করেন।
প্রায় ১২০ বছরের পুরানো খন্দকার বাড়ী জামে মসজিদটি নতুন করে ভবন নির্মাণ কাজ করার সময় মসজিদ কমিটির সাবেক মুতুয়ালি নেয়ামত উল্লাহ খন্দকার মসজিদের নামে বিভিন্ন জায়গা থেকে নগদ টাকা, রড, সিমেন্ট ও টাইলস এনে আত্মসাৎ করেছে।
এই ঘটনা জানতে পেরে মসজিদ কমিটি নতুন করে গঠনের পরে অভিযুক্ত নেয়ামত উল্লাহ খন্দকারকে মসজিদের মতুয়ালি থেকে বাদ দিয়ে সহ-সভাপতি হিসেবে রেখেছেন।
মসজিদের আয় ব্যয়ের সকল হিসাব ও দায়িত্ব সাবেক মতুয়ালি খন্দকার নেয়ামত উল্লাহ কাছে থাকায় তিনি মসজিদের অনুদান আত্মসাৎ করার সুযোগ পায়।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর এই তার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ কমিটির সদস্য ও বেশ কয়েকজন মুসল্লি অভিযোগ করে বলেন, হাফেজ নেয়ামত উল্লাহ খন্দকার ঢাকা বেগমবাজার দ্বীন মোহাম্মদ ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করেন। ঢাকায় থাকা অবস্থায় তিনি এই খন্দকার বাড়ী জামে মসজিদের ছবি দেখিয়ে নির্মাণ কাজের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে অনুদান এনে নিজেই আত্মসাৎ করেছে। সর্বশেষ ঢাকায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মসজিদের নামে আড়াই টন রড এনে এলাকায় সিপন হাওলাদের কাছে বিক্রি করেছে। এছাড়া মসজিদের নামে বেশ কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা অনুদান এনে ৭০ প্যাকেট টাইলস ক্রয় করে এলাকায় একটি দোকানে রেখেছেন। পরে সেই টাইলস তার বাড়িতে এনে বসতঘর ও টয়লেটে লাগিয়েছেন। এই ঘটনা জানতে পেরে মসজিদের সকল মুসুল্লিরা নেয়ামত উল্লাহ খন্দকার এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন ও এর সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানান।

এই ঘটনা সত্যতা যাচাই করতে অভিযুক্ত নেয়ামত উল্লাহ খন্দকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় মসজিদের টাইলস তার বসতঘর ও টয়লেটে ব্যবহার করেছে। বেশ কিছু টাইলস এর প্যাকেট তার ঘরে ভিতরে রয়েছে। এসময় এই বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য নেয়ামত উল্লাহ খন্দকারকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও তার স্ত্রী রকেয়া বেগম জানান, স্বামী নয় হাজার টাকা বেতনে ঢাকায় চাকরি করেন। কোন অনুদান নয় নিজেদের ৩৭ হাজার টাকা খরচ করে মসজিদ ও বাড়ির কাজে টাইলস ক্রয় করে আনা হয়েছে। তবে মসজিদের দেওয়ালে প্লাস্টার করার কারণে সেই টাইলস দেওয়া হয়নি বাড়িতে লাগানো হয়েছে।
যারা অপপ্রচার করছে তাদেরকে আমরা দেখে নেব।
এদিকে নেয়ামত উল্লাহ খন্দকার এর বড় ছেলে রকমত উল্লাহ খন্দকার জানান, বাবা মাদ্রাসায় চাকরি ও একটি মসজিদে ইমামতি করেন। মসজিদ করার সময় আড়াই টন রড অনুদান আনার পর সেই রড বিক্রি করা হয়েছে তবে সেই টাকা মসজিদ কমিটির লোকজন নিয়ে গেছে। টাইলস কোন অনুদান নয় নিজেদের টাকায় টাইলস গুলো ক্রয় করে এনেছি যারা অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব বলে জানান।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মোঃ,০১৭১৩৬৮৮৯২০