আজ  শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর পুরান বাজার শহর রক্ষা বাঁধ ভাঙ্গন, আতঙ্কে এলাকাবাসী

চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরান বাজার হরিসভা রোডের ঠোডা ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধ জিও ব্যাগে বালিভর্তি বস্তা প্রস্তুত করে ফেলানো হচ্ছে।
প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরপুরান বাজার হরিসভা রোডে শহররক্ষা বাঁধ কয়েকটি জায়গায় ফাটল দেখা দেয়।
এরমধ্যে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত হরিসভা রোডের মাথা অর্থাৎ ঠোডা ৩০ মিটার এলাকায় ফাঁটল দিয়ে রাস্তা ভেঙ্গে যায়। যেকোনো সময় বর্ষার পানির তোপে বিস্তর এলাকা ভেঙ্গে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
বুধবার সকাল থেকে পুরান বাজার হরিসভা ভাঙ্গন স্থানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে জিও ব্যাগ বালু বোঝাই বস্তা নদীতে ফেলা হচ্ছে।
এছাড়া বলগেট থেকে বালু উঠিয়ে বস্তা ভর্তি করে নদীর পাড়ে রাখা হচ্ছে।পর্যায়ক্রমে ভাঙ্গন স্থানে সেগুলো ফালানো হবে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন দায়িত্বরত কর্মকর্তারা।
নদী ভাঙ্গন দেখা যাওয়ার পর পুরান বাজার হরিসভা এলাকার বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, মেঘনার পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে পানি বৃদ্ধি ও প্রচন্ড স্রোতের কারণে শহর রক্ষা বাঁধের হরিসভা এলাকার কয়েকটি স্থানে ফাঁটল ও ব্লক ডেবে গেছে। হরিসভা এলাকার বসতবাড়ি, ধর্মীয় উপাসনালয়, ব্যবসা বাণিজ্য নদী ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। বাঁধের নদী তীরবর্তী দুইশ মিটার তীর এলাকা যে কোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা  করছেন স্থানীয় লোকজন।
প্রতিমুহূর্তে মানুষের মাঝে নদী ভাঙ্গন আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থায়ীভাবে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে শহর রক্ষা বাঁধের কাজ করা হলে এ এলাকা রক্ষা পাবে।

এদিকে শহররক্ষা বাঁধের পুরানবাজার এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেওয়ার সাথে সাথে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো জহির উদ্দিন আহমেদ, চাঁদপুরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী বাবুল আক্তারসহ অনন্যা কর্মকর্তা কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো জহির উদ্দিন আহমেদ জানান, বর্ষা মৌসুমে পানি অতিরিক্ত পানির চাপ হলে শহর রক্ষা বাঁধের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গতকাল হঠাৎ করে চাঁদপুর পুরান বাজার ৩০ মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেখানে সমস্যা হচ্ছে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে তা মেরামত করছি।চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে মেরামত করতে হলে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে তা করতে হবে। আমরা জরির কাজ সম্পন্ন করে একটি প্রকল্প দাখিল করেছি। এই প্রকল্পের আওতায় চাঁদপুর শহরে ৩ হাজার ৩০০মিটার প্রতিরক্ষা বাঁধের কাজ আছে তা শক্তিশালী ও দৃঢ়করন করবো। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫১ কোটি টাকা খরচ হবে। যদি প্রকল্পটি পাস হয় তাহলে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধ স্থায়ীভাবে নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০