আজ  মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর প্রাইভেট হাসপাতালে মৃতসন্তান ভেবে দূর্ভাগা প্রসূতি মা’র পলায়ন

 

 

চাঁদপুরে মৃতভেবে নবজাতকে প্রাইভেট হাসপাতালে রেখে পালিয়েছে এক দূর্ভাগা মা। হাসপাতলে ফেলে যাওয়া নবজাতকে দেখভাল করছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শহরের তালতলা এলাকায় দি ইউনাইটেড হাসপাতালে এন্ড ডায়াগনিস্টিক সেন্টারে (প্রাঃ) এ গত ১১ ডিসেম্বর রাতে এই ঘটনা ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত ১১ ডিসেম্বর ব্ধুবার রাত সাড়ে ৮টায় চাঁদপুর সদর উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাকিমের স্ত্রী সালমা বেগম (৩০) হাসপাতালে ভর্তি হয়। রাত সাড়ে ১০টায় নরমাল ডেলিভারীতে একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। শিশুটি মৃতভেবে ওষুধ কেনার নাম করে নবজাতকের মা ও তার সাথে থাকা লোকজন হাসপতালে শিশুটি রেখে পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে হাসপাতালের ওটি ইনচার্জ সুলতানা আক্তার সেতু বলেন, ১১ তারিখ রাত ৮টার পর প্রসূতি রুগি হাসপাতালে আসে। আমরা নিচে ট্রিটমেন্ট করে দেখি টুফিঙ্গার আছে রাত সাড়ে ১০টায় একটি কন্যা শিশুর জন্ম হয়। রুগির পরিবারকে মেডিসিনের জন্য বলল্লে তার ঐ সুযোগে নবজাতক শিশুটিকে হাসপাতাল রেখে কোন প্রকার বিল পরিশোধ না করে শিশুটির মা ও পরিবারের লোকজন পালিয়ে যায়। শিশুটি অনেক ছোট হয়েছে (প্রিম্যাচুইট) শিশুটিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমরা রোগীর ঠিকানা অনুযায়ী শিশুর মাকে খোঁজ করেছি কিন্তু কাউকে খুঁজে পাইনি। বিষয়টিকে একটি চক্র ভিন্নক্ষাতে নেওয়ার জন্য চেষ্টা করছে।
শিশুর পরিবারকে খুঁজে না পাওয়ায় হাসপতাল কর্তৃপক্ষ চাঁদপুর মডেল থানায় জিডি করে। যার জিডি নং-৯১৩, ১৭ ডিসেম্বর।
এ বিষয়ে আয়া সখিনা বেগম বলেন, আমি এ হাসপাতলের আয়া, চার পাঁচ দিন আগে হাসপাতালে এ বাচ্চটার জন্ম হয়। মইরা গেছে মনে করে হাসপাতালে পরিবার বাচ্চাটারে রাইখা পালাইয়া যায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাচ্চাটার চিকিৎসা করছে আমি বাচ্চাটারে দেখতাছি, মাইনষের বাচ্চা ফালাইয়তো দিতে পারি না। হাসপতাল কর্তৃপক্ষ নবজাতকে নিয়া বিপাকে আছে। সরকারি কোন কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে ভাল হয়। জিডিতে উল্লেখ, ১১ ডিসেম্বর রাত সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় জনৈক সালমা বেগম (৩০), স্বামী- আঃ হাকিম, সাং- বিষ্ণুপুর, থানা ও জেলা চাঁদপুর নামীয় একজন মহিলা গাইনী জনিত অসুস্থ্য নিয়ে আমার উক্ত হাসপাতালে ভর্তি হইলে কত্যবরত ডাক্তার তাহার শারীরিক পরিক্ষা থেষে তাহাকে হাসপাতালের ৩০৩নং কেবিনে ভর্তি করায়। ঐদিন রাত অনুমান ১০টা ৩০ ঘটিকার সময় কেবিনে থাকার রোগির প্রসুতি ব্যখা শুরু হইলে হাসপাতালে নার্স এবং গাইনী ডাক্তার বর্নিত কেবিনে যায় এবং রোগির নরমাল ডেলিভারীর মাধ্যমে একটি মেয়ে সন্তান জন্ম গ্রহন করে। উক্ত সংবাদ জানতে পেরে কিছু লোক হাসপাতালে এসে আমাদেরকে বিভিন্ন ভয় ভীতি ও হুমকি প্রদান করার কারণে চাঁদপুর মডেল থানায় সাধারন ডায়রী করি।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, বিষয়টি যেহেতু থানায় জিডি করা হয়েছে সে আলোকে পর্যালোচনা করা হবে। তদন্ত করে নবজাতকের মাকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হবে।