আজ  বৃহঃবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর বিষ্ণুপুরে ভুয়া মৎস্য সমিতির নামে সরকারি দিঘী ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা

     চাঁদপুর সদর উপজেলা ১ নং বিষ্ণুপুর ইউনিয়নে ভুয়া মৎস্য সমিতি দেখিয়ে সরকারি দিঘী নেওয়ার পাঁয়তারা করছে প্রতিপক্ষরা।
অবৈধভাবে ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতি অনুমোদন দেওয়া ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে বেআইনিভাবে ভুয়া মৎস্য সমিতিকে ইজারা দেওয়ায় অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত টিমের সদস্য ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
রবিবার দুপুরে বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের হাসাদী গ্রামের দমদমা দিঘী এলাকায় গিয়ে সিনিয়ার মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দুইপক্ষের কাছ থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
১৯৭৫ সালে হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ অনুমোদন নিয়ে দীর্ঘ বছর যাবত সরকারের কাছ থেকে ইজারা নিয়ে মৎস্য চাষ করে আসছে।
কিন্তু বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন পরিষদের একজন গ্রাম্য দফাদার নিজের নামে ভুয়া জেলে কার্ড তৈরি করে ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি হয়ে অনুমোদনের জন্য গত ৬ জুন সমবায় অফিসে আবেদন করেন।
চাঁদপুর উপজেলা সমবায় অফিসের অডিটর মোঃ শাহাবুদ্দিন তদন্ত না করে আবেদনের পরের দিন ৭ জুন তাদেরকে রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেয়।
ওই দিনেই সমিতির সভাপতি ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার আবুল হোসেন হাসাদী গ্রামের মজা পুকুর (দমদমা) নেওয়ার জন্য টেন্ডারে অংশগ্রহণ করেন।
জলমহল ব্যবস্থাপনা নীতি ,২০০৯ এর ১৫ অনুচ্ছেদে উল্লেখ আছে দিঘির পাশে নিকটবতী বসবাসরত ব্যক্তিগনের সমন্বয়ে গঠিত সমিতি সমবায় অধিদপ্তর কিংবা সমাজসেবা অধিদপ্তরের স্থানীয় অফিসের মাধ্যমে তিন বছর মেয়াদী ইজারা প্রদান করতে হবে।
কিন্তু সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে ধনপদ্দি আদর্শ মৎস্যজীবী সমিতি অনুমোদন দেওয়া ও ভুয়া মৎস্য সমিতিকে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ এর ম্যানেজার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন গাজী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে একটি অভিযোগ দায়ের করে ও এর অনুলিপি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত টিমের সদস্য উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য ও সমবায় কর্মকর্তা দুলাল চন্দ্র দাস ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ খবর নেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য জানান, একটি অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করা হয়েছে। যারা আবেদন করেছেন তারা প্রকৃত মৎস্যজীবী কিনা ও চারপাশের বাসিন্দা কিনা তা তদন্ত করা হয়।
দুই পক্ষের কাগজ দেখে তদন্তের প্রেক্ষিতে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
হাসাদি মজাপুকুর সংস্কার সমবায় সমিতি লিঃ ম্যানেজার ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ দেলোয়ার হোসেন গাজী জানান, ১৯৭৫ সাল থেকে সমিতির মাধ্যমে মজা পুকুর ইজারা নিয়ে চাষাবাদ করে আসছি।
কিন্তু বহিরাগত কিছু লোক ভুয়া সমিতি দেখিয়ে সরকারি নিয়মনীতি উপেক্ষা করে এই পুকুরটি ইজারা নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। যা অসম্পূর্ণ আইনের পরিপন্থী। আমরা তদন্ত সাপেক্ষে এর ব্যবস্থা গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছি।

শাহরিয়ার খান কৌশিক, মো,০১৭১৩৬৮৮৯২০