আজ  মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০

চাঁদপুর হরিনা নৌ ফাঁড়ির এসআই মান্নান টাকার বিনিময়ে দিচ্ছে ইলিশ ধরার অনুমতি

 

চাঁদপুর সদর উপজেলা ১৩ নং হানারচর ইউনিয়নের হরিনা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মান্নানের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসআই মান্নান জেলেদের কাছ থেকে নৌকা প্রতি হাজার টাকা নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ ধরার অনুমতি দিচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে ভোর পর্যন্ত মেঘনা নদীতে এসআই মান্নানের নির্দেশে শত শত জেলে মা ইলিশ নিধন করছে বলে অভিযোগ করেন জেলেরা।
নদীতে মাছ ধরার জন্য যাওয়ার পূর্বেই মান্নানের কাছে বিকাশে ও দালালের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা লেনদেন করছে।
যেসকল জেলেদের সাথে তার কনটাক্ট নেই শুধু সেই জেলেদেরকে ধরে এনে লোক দেখানো মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠাচ্ছে।
চাঁদপুর হরিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন রাঢ়িগো খাল ও হরিনা ফেরিঘাট নতুন টার্মিনালের পাশে খাল থেকে প্রতিদিন শত শত জেলে নৌকা নদীতে মাছ নিধন করার জন্য যাচ্ছে।
এসআই মান্নানের ইশারা পাওয়ার সাথে সাথেই তারা নদীতে মাছ ধরতে যায়। মাছ ধরার যখন সময় হয় তখন মান্নান ব্যক্তিগত কাজ দেখিয়ে উপরে অবস্থান নেয়। মূলত জোয়ার আসার সাথে সাথেই জেলেরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরতে নদীতে ছুটে যায়। ২ ঘন্টা সময় পেলেই তারা মাছ ধরে তীরে এসে সেই মাছ চড়া দামে পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে।
এসময় অনেক জেলে অভিযোগ করে বলেন, নৌ-পুলিশের এসআই মান্নানের ইশারায় নদীতে জেলেরা মাছ ধরতে যায়। সাংবাদিকরা ভিডিও ছবি তুলে কোন লাভ হবে না। কারণ প্রতি নৌকা ১০০০টাকা করে নৌ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মান্নানকে দিয়ে জেলেরা মাছ ধরে। অভিযানের দুদিন নৌ পুলিশ কঠোর অবস্থানে থাকলেও জেলেদের সাথে কন্টাক হওয়ার পরেই তারা নদীতে মাছ ধরতে ব্যস্ত হয়ে পরে।
এসআই মান্নান তার সহযোগী এসআই ইয়াকুব ও আজগর এরা তিনজন সমন্বয় নদীতে লোক দেখানো অভিযান করে করে জেলেদের টাকা নিয়ে নিজেরাই ভাগবাটোয়ারা করে নেয়। আর দালাল নেছু ও ফারুক শতাধিক জেলেদের কাছ থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উত্তোলন করে নৌ-পুলিশের এসআই মান্নানের কাছে হস্তান্তর করেন। নৌ-পুলিশের এই তিন পুলিশ কর্মকর্তা যখন নদীতে অভিযান করে তখন জেলে নৌকা ধরলে নদীতেই ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা নিয়ে সেই নৌকা ছেড়ে দেয়।
এসআই মান্নানের অপকর্মের কারণেই হরিনা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির একজন সৎ যোগ্য ও নিষ্ঠাবান ইনচার্জ আবুল হাসনাত জামানের উপর দোষ চাপিয়ে দিয়ে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।
এই দুর্নীতিবাজ এসআই মান্নান চাঁদপুর মডেল থানা এর পূর্বে কর্মরত থাকা অবস্থায় একজন অসহায় লোককে ধরে নিয়ে ব্যাপক নির্যাতন করার অভিযোগে তাকে জেলা পুলিশ থেকে বদলি করা হয়। তারপরে সে নৌ-পুলিশের যোগদান করার পরেই তার অপকর্ম শুরু করে।
তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিকভাবে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করলে দুর্নীতি বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত এসআই মান্নান জানান, নদীতে অভিযান করে অনেক জেলে আটক করা হয়েছে। যাদেরকে আটক করা হয়েছে তারাই আমাদের বিরুদ্ধে বদনাম বলতে শুরু করেছে। জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়। কিন্তু নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সংলগ্ন দুটি খাল থেকে শত শত জেলে নৌকা নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার বিষয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি সুকৌশলে এড়িয়ে যান।