আজ  শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

জাপানি যাত্রীবাহী জাহাজে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৪১

 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক |
জাপানের যাত্রীবাহী জাহাজে আরও ৪১ ব্যক্তি নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। এ নিয়ে ওই জাহাজে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৬১।
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানায়।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে জাপানের ইয়োকোহামা বন্দরে কোয়ারেন্টাইনে রাখা জাপানি জাহাজের তিন হাজার সাতশ’ যাত্রীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) তিনশ’ জনকে পরীক্ষার পর ১০ জন আক্রান্ত হওয়ার প্রমাণ মিলেছে। ইতোমধ্যে যাদের পরীক্ষা করা হয়েছে, তাদের মধ্য থেকে আরও ৪১ জন এ ভাইরাসে আক্রান্ত বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
‘ডায়মন্ড প্রিন্সেস’ নামে ওই জাহাজে নতুন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ৬১ জনের মধ্যে ২৮ জাপানি, ১১ মার্কিন নাগরিক, ৭ অস্ট্রেলীয়, ৭ কানাডিয়ান ও ৩ চীনা রয়েছেন। এছাড়া যুক্তরাজ্য, নিউজিল্যান্ড, তাইওয়ান, ফিলিপাইন ও আর্জেন্টিনার একজন করে রয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জাহাজটি কোয়ারেন্টাইনে রাখা হতে পারে।
ওই জাহাজের আরোহী যুক্তরাজ্যের নাগরিক ডেভিভ অ্যাবেল ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানান, সেখানে যাত্রীদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং তাপমাত্রা বাড়লে স্বাস্থ্যসেবা নিতে বলা হয়েছে। যাত্রীদের কেবিনে কোনো জানালা নেই। ফলে দিনের আলো ও তাজা বাতাস প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই। তাই যাত্রীদের জাহাজের খোলা ডেকে ব্যায়াম করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে সেসময় মাস্ক পরে থাকতে হবে এবং অন্য যাত্রীদের থেকে এক মিটার দূরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করতে হবে। দলবেঁধে চলতে নিষেধ করা হয়েছে। জাহাজে যাত্রীদের কক্ষ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তাদের নিজের। আগের ময়লা কাপড়ই আবারও পরতে হচ্ছে তাদের। তবে অন্তর্বাস ধোয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজে শুধু হাত ধোয়ার সাবানের ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া, যাত্রীদের প্রয়োজন মতো খাবার দেওয়া হচ্ছে।
জাপানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী কাতসুনোবু কাতো এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, করোনা ভাইরাস আক্রান্তদের জাহাজ থেকে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে ওই জাহাজে ভ্রমণ করেছেন এমন এক যাত্রী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। ৮০ বছর বয়সী ওই যাত্রী গত ২৫ জানুয়ারি হংকং যাওয়ার পর তার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। তাই জাহাজটি কোয়ারেন্টাইন করে অন্য যাত্রীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে জাপান।