আজ  শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

জিন তাড়াতে পিটিয়ে হত্যা: স্ত্রী-ছেলেসহ ‘ভণ্ডপীর’ গ্রেপ্তার

 

জিন তাড়ানোর নামে বরিশালের বাকেরগঞ্জে প্রতিবন্ধী রোগীকে পিটিয়ে ও পানিতে ডুবিয়ে হত্যার মামলায় স্ত্রী-ছেলেসহ এক ফকির পীরকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৮।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে গ্রেপ্তারদের বাকেরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র‌্যাব জানায়, বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুরের কালাম মৃধা (৪২) নামের ব্যক্তি মানসিকভাবে দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় কথিত পীর রিয়াজউদ্দিন ফকির কালাম মৃধা তার চিকিৎসা শুরু করেন। একপর্যায়ে গত ৩১ জানুয়ারি রিয়াজ ফকির, তার চাচাতো ভাই অসীম ফকিরসহ ৪/৫ জন কালাম মৃধাকে চিকিৎসার কথা বলে লাঠি দিয়ে বেদম পেটান ও পুকুরের ঠান্ডা পানিতে কালামকে ১০১ বার ডুবান। এ সবই করা হয় রিয়াজের হুকুমে জিন ছাড়ানোর নামে। তাদের অমানুষিক নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে কালাম মৃধা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এ সময় তার লাশ বাড়ির পাশের বাগানে ফেলে পালিয়ে যায় ভন্ড পীরসহ অন্যান্যরা। এ ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এলাকায়। এই ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয় মৃত ব্যক্তির পরিবারের পক্ষ থেকে। এর পরপরই বিষয়টির তদন্ত শুরু করে র‌্যাব।
তদন্তের এক পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বরিশাল নগরীর রুপাতলী এলাকায় অভিযান চালায় র‌্যাবের সদস্যরা। এ সময় মৃত কাষ্ণন আলী ফকিরের ছেলে রিয়াজউদ্দিন ফকির (৪৮), তার স্ত্রী তাসলিমা আক্তার লাকী (৪২) এবং ছেলে তৗহিদুর রহমানকে (১৮) গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার সবাই বাকেরগঞ্জের আউলিয়াপুরের বাসিন্দা। তারা কালাম মৃধা হত্যার ঘটনায় নিজেদের জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।
র‌্যাব জানায়, রিয়াজউদ্দিন ফকিরের দাদা মৃত ফকির আ. রহমান মুন্সী ওরফে কালুসা দেওয়ান প্রথম জীবনে মাদ্রাসার শিক্ষকতা করতেন এবং মুন্সী পদবি নেন। পরে তিনি ফরিদপুরের দত্তপাড়ায় মোহনসা দেওয়ানের মুরিদ হয়ে এলাকায় এসে দরগাহ খোলেন। তার মৃত্যুর পর রিয়াজের চাচা সাম দেওয়ান এই পীরদানি চালিয়ে যান এবং নাম দেন দেওয়ান মাজার যা বরিশাল নগরীর কাউনিয়ায় অবস্থিত। সাম দেওয়ান মারা যাওয়ার পর তার ছেলে খোকন দেওয়ান পীরের কাজ চালু রাখেন। খোকন দেওয়ান মারা যাওয়ার পর গত সাড়ে চার বছর ধরে বাকেরগঞ্জের আওলিয়াপুরে রিয়াজ পীরদানী ব্যবসা পরিচালনা করছিলেন। চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছে থেকে নগদ অর্থ ছাড়াও চাল, ছাগল, গরু, মুরগিসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আদায় করতেন কথিত পীর রিয়াজউদ্দিন ফকির।