আজ  রবিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২০

পদ্মা ও এনআরবি ব্যাংকের চার কোটি মেরেছে সাহেদপদ্মা ও এনআরবি ব্যাংকের চার কোটি মেরেছে সাহেদ

করোনাভাইরাস মহামারির মধ্যে চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদ ওরফে সাহেদ করিম। রিজেন্টকাণ্ডের পর তার এমন নানা অপকর্ম বেরিয়ে আসছে।

 

 

সাহেদের প্রতারণার ছোবল থেকে বাদ পড়েনি বেসরকারি দুটি ব্যাংকও। পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ও এনআরবি ব্যাংক থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি জার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সাতক্ষীরা থেকে ঢাকায় এসে এমএলএম ব্যবসা থেকে শুরু করে নানারকম জালিয়াতি-প্রতারণার ডজন ডজন মামলার খবর ঢেকে রেখে নিজেকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে বেগ পেতে হয়নি সাহেদকে।

তবে মহামারি করোনাভাইরাস চিকিৎসার নামে প্রতারণা এবং জালিয়াতির মাধ্যমে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার খবর ফাঁস হতেই একে একে বেরিয়ে আসছে তার আরও আরও অপকর্মের ঘটনা।

জানা যায়, প্রতারক সাহেদের প্রতারণা, জালিয়াতি ও আত্মস্বাৎ থেকে রেহাই পাইনি বেসরকারি খাতের পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ও এনআরবি ব্যাংক। জালিয়াতির মাধ্যমে এ ব্যাংক দুটি থেকে তিনি অর্থ আত্মসাৎ করায় মামলা করে ব্যাংক। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়, কিন্তু ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে তিনি অধরাই থেকে গেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৫ সালে ১৯ জানুয়ারি ফারমার্স ব্যাংক থেকে হাসপাতালের যন্ত্রপাতি কেনার জন্য থেকে ২ কোটি টাকা ঋণ নেন সাহেদ। কিন্তু নানান অজুহাত আর তালবাহানায় সাহেদ ব্যাংককে প্রথমদিকে কিছু কিস্তি প্রদান করলেও পরবর্তীতে আর কোনও টাকা পরিশোধ করেননি। ৫ বছরে সুদ আসলে সেই ঋণ এখন ২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

ঋণ গ্রহণের সময় জামানত হিসেবে দেন ব্যক্তিগত এবং পরিবারের সদস্য ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের পরিচালকদের নাম, প্রতিষ্ঠানের নথি, চেক এবং আরজেএসসি লাইসেন্স। ঋণ প্রদানের পর বর্তমান পদ্মা ব্যাংক পর্যদ জানতে পারে সাহেদ ভূয়া কাগজপত্র দিয়ে ঋণ নিয়েছে। এ ঘটনায় ২০১৭ সালে সাহেদের নামে ব্যাংকটি প্রতারণার মামলা করে। এতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। কিন্তু তিনি অধরা থেকে যান। এমনকি অর্থপরিশোধও করেনি ব্যাংককে।
পদ্মা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এহসান খসরু ঢাকা টাইমসকে জানান, ফারমার্স ব্যাংক থাকাকালীন পর্ষদ সাহেদকে ২ কোটি টাকা লোন দেয়। ২০১৫ সালে কয়েকটি কিস্তি দেওয়ার পর আর কোনও কিস্তি না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে মামলা করেও কোনও লাভ হয়নি।

‘ক্ষমতার দাপটে সাহেদ গ্রেপ্তার এড়িয়ে গেছেন। এমনকি দুদকেও অর্থ আত্মসাতের মামলা হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত অর্থঋণ আদালতে মামলা করার প্রস্তুতি নিয়েছি।’

এদিকে এনআরবি ব্যাংকের সঙ্গে প্রতারণা করেছে সাহেদ। রিজেন্ট হাসপাতালের যন্ত্রাংশ কেনার নামে ব্যাংকটির উত্তরা শাখা থেকে ২০১৪ সালে দুই কোটি টাকা ঋণ নেন। কিন্তু সেই টাকা কোনো কিস্তিই পরিশোধ করেননি।

জানা যায়, ঋণ আদায়ে এনআরবি ব্যাংকের পক্ষ থেকে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও সাহেদ কোনো অর্থ পরিশোধ করেননি উল্টো চেক নিয়েও প্রতারণা করেন। সাহেদের দেওয়া চেক ডিসঅনার হয়। এনআরবি ব্যাংক ঋণের টাকা আদায়ে ব্যর্থ হয়ে অর্থঋণ মামলা করেছে।

এছাড়া তার জামানত চেক ডিজঅনার হওয়ায় রিজেন্ট হাসপাতাল লিমিটেডের বিরুদ্ধে এন আই অ্যাক্টের অধীনে ২টি মামলা করা হয়েছে অর্থঋণ আদালতে। মামলার বিবরণ-(১) অর্থঋণ মামলার নম্বর ১০/২০১৮, মামলায় জড়িত অর্থ- ১.৫২ কোটি টাকা (২) এন আই অ্যাক্টের মামলা-১৫০৩/২০১৬, মামলায় জড়িত অর্থ- ১.০০ কোটি টাকা (৩) এন আই অ্যাক্টের মামলা-১৭১২/২০১৭, মামলায় জড়িত অর্থ- ১.০০ কোটি টাকা এ ছাড়া রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মো. সাহেদের ক্রেডিট কার্ডের জন্য অর্থঋণ মামলা নম্বর ১০০/২০২০ (টাকা ৪.৭৭ লাখ টাকা) দায়ের করা হয়েছে।