আজ  শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

প্রেমের বিয়ের করুণ পরিণতি চাঁদপুর ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, পরিবারের অভিযোগ হত্যা

 

চাঁদপুর ফরিদগঞ্জে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। ফরিদগঞ্জ থানা পুলিশ গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন।
মারিয়া আক্তারের পরিবারের অভিযোগ তার স্বামী হত্যা করে লাশ ঘরের ভিতরে আড়ার সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে।
চার মাস পূর্বে কলেজ ছাত্রী মারিয়া আক্তার (১৮) প্রেমের টানে ফরিদগঞ্জ উপজেলা চান্দ্রা খারখাদিয়া গ্রামের জাকির হোসেনের বখাটে ছেলে সাইফুল ইসলামের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে।
বিয়ে করার পর থেকে সাইফুল তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারকে বেদম মারধর ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করে।
সোমবার ভোরে স্বামী সাইফুল ইসলামের বসত ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় মারিয়া আক্তার এর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনা সাইফুল ইসলাম ভোর ছয়টায় স্ত্রী মারিয়া আক্তার এর মামা মাহবুব আলমকে ফোনে অবহিত করেন।
মাহবুব আলম উপায় না পেয়ে ৯৯৯ ফোন করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে ফরিদগঞ্জ থানার এসআই জাকারিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূ মারিয়া আক্তার এর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেন।
নিহত মারিয়া আক্তারের পরিবার থানায় অভিযোগ করতে গেলে পুলিশ তালবাহানা শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
মারিয়া আক্তার এর মামা মাহবুব আলম জানান, মারিয়ার বাবা মহরম আলী প্রবাসে থাকেন। মারিয়া আক্তার চান্দ্রা ইমাম আলী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছেন।
স্কুলে পড়ালেখা করার সময় বখাটে সাইফুল ইসলাম তাকে প্রায় সময় উত্যক্ত করত।প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে পালিয়ে নিয়ে বিয়ে করে।
বিয়ে করার পর থেকেই উভয়ের মাঝে ঝগড়া বিবাদ হত। মারিয়াকে মারধর ও নির্যাতন করায় এই ঘটনা হয়েছে। তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে তার শরীরের ক্ষত চিহ্ন রয়েছে। থানায় মামলা করার জন্য গেলে তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত অভিযোগ করা যাবে না।
এজন্য আদালতের শরণাপন্ন হয়ে হত্যাকারীর বিচারের দাবিতে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জাকারিয়া জানান, নিহত গৃহবধূ মারিয়া আক্তার এর লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট আসার পর জানা যাবে এটি হত্যা না আত্মহত্যা। এই ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে। যদি পরিবারের অভিযোগ থাকে তাহলে তারা আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।
এদিকে মারিয়া আক্তার মৃত্যুর ঘটনায় এটি হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে এলাকায় ধূম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বখাটের সাইফুল ইসলাম অনেক মেয়ের জীবন নষ্ট করেছে।সে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রবাসী মহরম আলীর মেয়েকে তুলে নিয়ে বিয়ে করেছে। বিয়ের পর থেকেই তাকে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন খুব নির্যাতন করতো। ঘটনাটি সঠিক তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় সচেতন মহল।