আজ  শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০

স্বল্প খরচে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো চাষ

‘উত্তরের শষ্যভান্ডার’ দিনাজপুরে অত্যাধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে বোরো ধানের চারা রোপণ কার্যক্রম কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। রাইস ট্রান্সপ্লান্টারের মাধ্যমে এ পদ্ধতিতে স্বল্প সময়ে অধিক জমিতে সুস্থ সবল চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। এতে সময়, শ্রম, অর্থ ও পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি জমিতে উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তরা।

অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে জমিতে রোরো ধানের চারা রোপণ করছেন কৃষকরা। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার চকের হাট এলাকায় কৃষক মতিউর রহমানের ১২০ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে বোরো চারা রোপণ করেছেন। এ মাঠ প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দপ্তরের কৃষি সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কৃষিবিদসহ অসংখ্য কৃষক।

মতিউর রহমান জানান, এ পদ্ধতিতে বোরো চাষাবাদে প্রতি একরে তার দুই হাজার টাকা সাশ্রয় হয়েছে। ধান কাটা পর্যন্ত প্রতি একরে চার হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা সাশ্রয় হবে বলে তার ধারণা। তাছাড়া এ পদ্ধতিতে চাষে তার সময় ও শ্রমও কম লাগছে বলে জানান তিনি।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, পল্লী উন্নয়ন একাডেমি ও এগ্রিপ্লাস লিমিটেড যৌথভাবে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বোরো ধান চারা রোপণের এ কার্যক্রমের উদ্যোগে নিয়েছে। এতে সময়, শ্রম, অর্থ ও পানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি জমিতে উর্বরা শক্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের যুগ্ম-পরিচালক মোশাবেবর হোসেন ও দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক তৌহিদুল ইকবাল।

পল্লী উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক আমিনুল ইসলাম যান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে বোরো ধান চারা রোপণ কার্যক্রমকে কৃষি সেক্টরে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে মেশিনে বোরোর বীজতলা তৈরির পর মাত্র ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে সুস্থ, সবল ও রোগমুক্ত এসব বোরো চারা রাইস ট্রান্সপ্লান্টার মেশিনের সাহায্যে রোপণ করা হচ্ছে।

গতানুগতিক চাষাবাদ থেকে কৃষকদের অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ধান উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে দিনাজপুরে বাণিজ্যিকভিত্তিতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে স্বল্প খরচে ধান চাষে যান্ত্রিককরণ পদ্ধতি ‘যান্ত্রিক চারা রোপণ মাঠ প্রদর্শনী’ আয়োজন করছেন উদ্যোক্তরা। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদে ফলন ভালো পেলে এ অঞ্চলে আগামীতে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধানের চাষাবাদ আরো বেড়ে যাবে বলে মনে করছেন কৃষিবিদরা।