আজ  বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

হাজীগঞ্জে প্রতারণার দায়ে কলেজ শিক্ষক আটক

 

স্টাফ রিপোর্টার
প্রতারণার মাধ্যমে হাজিগঞ্জে যৌথ মালিকানা ব্যবসা নিজের নামে করে নেওয়ার অপরাধে প্রতারনার মামলায় প্রতারক কলেজ শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন ও তার ভাই আবুল কালাম পুলিশের হাতে আটক।

মামলার বিবরণী থেকে জানা যায় হাজিগঞ্জ উপজেলার আড়ুলী বড়কুল গ্রামের হুমায়ুন কবির এর সঙ্গে একই উপজেলার কংগাইশ গ্রামের মৃত আবদুল গনির সন্তান মোঃ আবু তাহেরের সঙ্গে যৌত ডিলারশিপ ব্যবসা ছিল। মোঃ হুমায়ুন কবির এইচ এন এন্টারপ্রাইজ নামে ক্ষুদ্র ডিলারের ব্যবসা শুরু করলে পরবর্তীতে তা ব্যাপক সুনাম অর্জন করতে সক্ষম হয়। এতে করে মোহাম্মদ আবু তাহের মোঃ হুমায়ুন কবির কে প্রস্তাব করেছে যৌথভাবে বড় পরিসরে ব্যবসা করার।

হুমায়ুন কবীর ও আবু তাহের যৌথ সম্মতিতে এইচ এন এন্টারপ্রাইজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি টি এস এন্টারপ্রাইজ নামের রূপান্তরিত করে। যাহার লাইসেন্স নং ২৪১১-০১ এবং লাইসেন্স আইডি ০৯-০১৫২৪১১-০১। হুমায়ুন কবীর ও আবু তাহের প্রাণ, প্রেস, এলসন, এগ্রো ফুড, বেভারেজ কোম্পানি ব্যবসা পরিচালনা করত। আর ব্যবসায়িক সকল লেনদেন পরিচালিত হতো আল আরাফা ইসলামী ব্যাংক, হাজীগঞ্জ শাখা ০৮২১০২০০০৩৮৩৮ একাউন্টের মাধ্যমে।

যৌথ ব্যবসার শুরুতেই উভয়ে ১২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করে মোট মূলধন ২৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যৌথ ব্যবসা শুরু করেন। যৌথ বিনিয়োগ ও ব্যবসা পরিচালনার যাবতীয় দিক নির্দেশনা ও শর্তাবলি ৩০০ টাকার নন- জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প লিপিবদ্ধ করে চুক্তি সম্পাদন করা হয়।

হুমায়ুন কবির তার ব্যক্তিগত প্রয়োজনে কিছু দিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বাইরে অবস্থান করে, আর সেই সুযোগে মোঃ আবু তাহের, ও তার ভাই মোঃ আবুল হোসেন, এবং মোঃ আবুল কালাম ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানটি দখল করে নেয়। যৌথ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টি এইচ এন্টারপ্রাইজ নামটি পরিবর্তন করে তাহের এন্ড ব্রাদার্স নামকরণ করে লক্ষ লক্ষ টাকার মূলধন ও লভ্যাংশ বেআইনিভাবে আত্মসাৎ করে।

হুমায়ুন কবির তার ব্যক্তিগত প্রয়োজন সেরে পুনরায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আসলে আবু তাহের ও তার ভাইরা স্থানীয় প্রভাব কাটিয়ে হুমায়ুন কবিরকে জিম্মি করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী এনে ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জোরপূর্বক আড়াআড়ি স্বাক্ষর রেখে দেয়। ঘাতক দের কবল থেকে হুমায়ুন কবির ছুটে এসে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চাঁদপুরে স্টাম্প পুনরুদ্ধারের জন্য ৮৮২/১৫ মামলা দায়ের করে। কিন্তু মামলার জবাবে আবু তাহের ও তার ভাইরা ৭ ই আগস্ট ২০১৫ সালে আদালতে স্বীকারোক্তি দেয় যে তারা কোনো স্টাম্প নেই নি এবং হুমায়ূন কবীরের সঙ্গে তাদের কোনো ব্যবসা ছিল না।

আবু তাহের ও তার ভাইরা হুমায়ুন কবিরের লক্ষ লক্ষ টাকার মূলধন ও মুনাফা আত্মসাৎ করার দায়ে হুমায়ুন কবির পরবর্তীতে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (হাজিগঞ্জ) আমলি আদালতে মোঃ আবু তাহের ও তার দুই ভাইকে আসামি করে জি আর ৩১৫/২০ প্রতারণার মামলা দায়ের করেন। আর ওই মামলার ভিত্তিতে হাজিগঞ্জ থানা পুলিশ ১১ নভেম্বর বুধবার রাতে ২নং আসামী কলেজ শিক্ষক মোঃ আবুল হোসেন ও ৩ নং আসামী মোঃ আবুল কালামকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেন। ১ নং আসামী আবু তাহের মামলা দায়েরের পর পর গা ডাকা দিয়ে পালিয়ে রয়েছে বলে জানা যায়।